ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের ধামইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে ৩৭ দিনে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে করেছে হুথিরা বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আ.লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার ড. ইউনূস: রিজভী কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়ায় অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়াল পুলিশ এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার আর নেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি রাজশাহী নগরের শাহ মখদুম আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনের বাসিন্দা ছিলেন।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

সংক্ষিপ্ত জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ১৯৩৮ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৃত নয়ন মোল্লা মণ্ডল। তিনি রাজশাহী জেলার সপুরা ডাকঘরের আওতাধীন শাহ মখদুম আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

১৯৬০ সালে দিনাজপুর জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি দিনাজপুর পুলিশ লাইনে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। তৎকালীন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আবুল হাশেমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। তাঁর সাহসী ভূমিকার কারণে পাকিস্তানি সেনারা সৈয়দপুরে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দিনাজপুর শহর শত্রুমুক্ত থাকে।

পরবর্তী সময়ে ২৩ এপ্রিল তিনি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায় চলে যান এবং ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান। লালগোলা সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর গিয়াস আহমেদ চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অভয়া ব্রিজ অপারেশন, মহিষ কুড়ি অপারেশন, চর আলাতুলি ও দেবীনগর অপারেশন এবং নবাবগঞ্জের ১০০ ঘাটার যুদ্ধসহ একাধিক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে টি.এস.আই. পদে কর্মরত থেকে অবসরে যান।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ১১:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার আর নেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি রাজশাহী নগরের শাহ মখদুম আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনের বাসিন্দা ছিলেন।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

সংক্ষিপ্ত জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ১৯৩৮ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৃত নয়ন মোল্লা মণ্ডল। তিনি রাজশাহী জেলার সপুরা ডাকঘরের আওতাধীন শাহ মখদুম আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

১৯৬০ সালে দিনাজপুর জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি দিনাজপুর পুলিশ লাইনে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। তৎকালীন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আবুল হাশেমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। তাঁর সাহসী ভূমিকার কারণে পাকিস্তানি সেনারা সৈয়দপুরে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দিনাজপুর শহর শত্রুমুক্ত থাকে।

পরবর্তী সময়ে ২৩ এপ্রিল তিনি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায় চলে যান এবং ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান। লালগোলা সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর গিয়াস আহমেদ চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অভয়া ব্রিজ অপারেশন, মহিষ কুড়ি অপারেশন, চর আলাতুলি ও দেবীনগর অপারেশন এবং নবাবগঞ্জের ১০০ ঘাটার যুদ্ধসহ একাধিক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে টি.এস.আই. পদে কর্মরত থেকে অবসরে যান।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।