ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ গেল সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ১৮ দিনেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে ফিরলেন শাহজাহান আলী পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস আতঙ্ক-উচ্ছ্বাস দুই নিয়েই অপেক্ষায় বাংলাদেশ দক্ষিণ সুদানে চরম ত্রাণ সংকট: অনাহারের ঝুঁকিতে ১০ লাখ মানুষ ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান জাল টাকার বান্ডিল দিয়ে বোকা বানিয়ে সোনার চেইন নিয়ে পালালেন ক্রেতা!
৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

১৮ দিনেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে ফিরলেন শাহজাহান আলী

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগের পর গত ২৩ জুলাই তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ফের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে ২৩ জুলাই শাহজাহান আলীকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।

এরপর ১২ আগস্ট উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে আবারও প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বহাল করা হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান।

সরকারি ওয়েবসাইটের কর্মকর্তা তালিকাতেও মো. শাহজাহান আলীর নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছে।

৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
শাহজাহান আলীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব বহুতল ভবনের কয়েকটিতে উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ফাটল, জানালার লিন্টেল বাঁকা হওয়া এবং ছাদ নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসে।

এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন শাহজাহান আলী।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ১৪টি অডিট আপত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিবেদনে নির্মিত ভবনে ফাটল এবং আইসিটি ও বিজ্ঞানাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত চলমান থাকা অবস্থাতেই শাহজাহান আলীকে ফের দায়িত্বে বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

‘অদৃশ্য কারণে’ ১৮ দিনের মাথায় ফেরত?

শাহজাহান আলীকে ওএসডি করার পর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তাকে পুনরায় একই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে তাকে কেন এত দ্রুত পুনর্বহাল করা হলো-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে একই প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

শাহজাহান আলীকে কেন্দ্র করে ইইডিতে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাঁদের দাবি, উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জোয়ারদার, উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ শিমুল আকন্দ এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মনিরুজ্জামান জোয়ারদার ও আবু সাঈদ শিমুল আকন্দকে সম্প্রতি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে বদলি করা হলেও তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁরা বদলির আদেশ কার্যকর করছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বদলির আদেশ, মেডিকেল সনদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনসহ নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ঘুষের অভিযোগ—প্রমাণ কোথায়?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শাহজাহান আলীকে মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার উৎস, লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে কি না।

শাহজাহান আলীর বক্তব্য

অভিযোগ ও পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার ওএসডি করেছিল। আবার সরকারই বহাল করেছে। আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব এসেছে, সেভাবেই পালন করছি।”

অর্থাৎ, পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।

এখন সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন

শাহজাহান আলীকে ঘিরে অভিযোগ, ওএসডি, মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল এবং তদন্ত—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন
তদন্ত চলাকালে কেন তাকে একই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলো?

৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ওঠা লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না?

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হবে কি?

অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-২৩ জুলাই ওএসডি, ১২ আগস্ট পুনর্বহাল-মাত্র ১৮ দিনের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে সরকারি ব্যাখ্যাটি কী?

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার সরকারি অর্থ, নির্মাণের মান এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এবং তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

তদন্তেই এখন নির্ধারিত হতে পারে-অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা কেবল অভিযোগ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি

৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

১৮ দিনেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে ফিরলেন শাহজাহান আলী

আপডেট সময় ১০:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগের পর গত ২৩ জুলাই তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ফের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে ২৩ জুলাই শাহজাহান আলীকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।

এরপর ১২ আগস্ট উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে আবারও প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বহাল করা হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান।

সরকারি ওয়েবসাইটের কর্মকর্তা তালিকাতেও মো. শাহজাহান আলীর নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছে।

৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
শাহজাহান আলীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব বহুতল ভবনের কয়েকটিতে উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ফাটল, জানালার লিন্টেল বাঁকা হওয়া এবং ছাদ নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসে।

এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন শাহজাহান আলী।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ১৪টি অডিট আপত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিবেদনে নির্মিত ভবনে ফাটল এবং আইসিটি ও বিজ্ঞানাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত চলমান থাকা অবস্থাতেই শাহজাহান আলীকে ফের দায়িত্বে বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

‘অদৃশ্য কারণে’ ১৮ দিনের মাথায় ফেরত?

শাহজাহান আলীকে ওএসডি করার পর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তাকে পুনরায় একই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে তাকে কেন এত দ্রুত পুনর্বহাল করা হলো-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে একই প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

শাহজাহান আলীকে কেন্দ্র করে ইইডিতে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাঁদের দাবি, উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জোয়ারদার, উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ শিমুল আকন্দ এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মনিরুজ্জামান জোয়ারদার ও আবু সাঈদ শিমুল আকন্দকে সম্প্রতি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে বদলি করা হলেও তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁরা বদলির আদেশ কার্যকর করছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বদলির আদেশ, মেডিকেল সনদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনসহ নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ঘুষের অভিযোগ—প্রমাণ কোথায়?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শাহজাহান আলীকে মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার উৎস, লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে কি না।

শাহজাহান আলীর বক্তব্য

অভিযোগ ও পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার ওএসডি করেছিল। আবার সরকারই বহাল করেছে। আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব এসেছে, সেভাবেই পালন করছি।”

অর্থাৎ, পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।

এখন সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন

শাহজাহান আলীকে ঘিরে অভিযোগ, ওএসডি, মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল এবং তদন্ত—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন
তদন্ত চলাকালে কেন তাকে একই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলো?

৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ওঠা লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না?

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হবে কি?

অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-২৩ জুলাই ওএসডি, ১২ আগস্ট পুনর্বহাল-মাত্র ১৮ দিনের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে সরকারি ব্যাখ্যাটি কী?

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার সরকারি অর্থ, নির্মাণের মান এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এবং তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

তদন্তেই এখন নির্ধারিত হতে পারে-অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা কেবল অভিযোগ।