স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মো. বেলাল হোসেনের দায়িত্ব অব্যাহত থাকছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব এবং ফেব্রুয়ারিতে চলতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এলজিইডির সরকারি ওয়েবসাইটেও বর্তমানে তাকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের প্রকৌশল ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এলজিইডির শীর্ষ পদে আসা বেলাল হোসেনের কর্মজীবনের শুরু ১৯৯২ সালে। রাজশাহীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি—বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)—থেকে ১৯৮৯ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণেও কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।
কর্মজীবনের শুরুতেই কুমিল্লা বার্ডে দুই মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান অর্জন করেন বেলাল হোসেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রকৌশলীর পুরস্কার পান। মাঠপর্যায়ে কাজের এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রকৌশল ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ভিত্তি তৈরি করে।
২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গাইবান্ধা জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁর কর্মজীবনে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়। সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, এ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে নীলফামারীতেও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রকল্পের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ ও পরীক্ষাগারভিত্তিক মান যাচাইয়ে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।
গাইবান্ধায় দায়িত্ব পালনকালে ঘাঘট লেকের উন্নয়ন এবং ‘বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প’-এর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা এলজিইডির জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেয়েড ব্রিজের পরিকল্পনা, নকশা ও দরপত্র আহ্বানের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। এ প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার তথ্য সরকারি জীবনীতে রয়েছে।
২০২০ সালের মার্চে এলজিইডি সদর দপ্তরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কর্মক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়। পর্যায়ক্রমে উপপ্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে প্রশাসন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ শাখার দায়িত্ব নেন। ফলে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রশাসন, মানবসম্পদ, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনাতেও তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
এলজিইডির সরকারি জীবনীতে তাঁর কাজের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাঠভিত্তিক অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, অবকাঠামোর গুণগত মান এবং টেকসই নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গেও তাঁর দায়িত্বের যোগসূত্র রয়েছে।
পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বেলাল হোসেন পরিবেশ, সরকারি ক্রয়, সার্ভিস রুলস, মান নিয়ন্ত্রণ, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, জিআইএস, দারিদ্র্য বিমোচন ও অংশগ্রহণমূলক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনস, লাওস, চীন, জাপান, কানাডা, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রেও প্রশিক্ষণ গ্রহণের তথ্য সরকারি ও প্রকাশিত জীবনীতে পাওয়া যায়।
প্রকৌশলী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা। উপজেলা প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং শেষ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলী—প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতাকে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা যায়।
২০২৬ সালের ২০ জুলাইয়ের সরকারি আদেশভিত্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেনকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতন স্কেলে গ্রেড-১ পদে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলজিইডির শীর্ষ পদে তাঁর দায়িত্বের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
বর্তমানে এলজিইডির মতো দেশের বৃহৎ অবকাঠামো বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর সামনে বড় দায়িত্ব হলো গ্রামীণ সড়ক, সেতু, স্থানীয় অবকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা। ২০২৬ সালের এক বক্তব্যে তিনি আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সঠিক তথ্য ও জ্ঞানের সুপরিকল্পিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্য তাঁর প্রশাসনিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—উন্নয়ন পরিকল্পনায় তথ্য, জ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার।
দীর্ঘ পেশাজীবনে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত অভিজ্ঞতা অর্জন করা বেলাল হোসেন এখন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায়োগিক ও নীতিনির্ধারণী উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া স্বীকৃতি, দায়িত্বের ধারাবাহিকতা এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সম্পৃক্ততার তথ্যগুলো তাঁর পেশাগত পরিচয়ের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে সরকারি নথি ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৯:৩৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- ৫০১ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ





















