ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ, ব্যবস্থা চেয়ে কৃষি মন্ত্রীর কাছে কৃষকদের আবেদন গাজীপুরে উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে আইইবি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড: নির্মমতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন পুলিশ কমিশনার ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন ভোলাহাটে উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ড. মু. মিজানুর রহমান এমপি রাজস্ব কর্মকর্তা বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কুমিল্লায় গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন শিবগঞ্জে ১৮৫ গ্রাম হেরোইনসহ চারজন গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান বেপারী (৩১) নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে প্রেমিক না আসায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মামাতো ভাই রিয়াজ বেপারীকে ফোন করে সে।
এরপর রিয়াজ বেপারী ওই কিশোরীকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লায় সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে তার দুই বন্ধু সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারী কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন মোল্লা, ওসমান বেপারী ও রিয়াজ বেপারীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে এমন একটি বার্তা পৌঁছাবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ, ব্যবস্থা চেয়ে কৃষি মন্ত্রীর কাছে কৃষকদের আবেদন

ফরিদপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান বেপারী (৩১) নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে প্রেমিক না আসায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মামাতো ভাই রিয়াজ বেপারীকে ফোন করে সে।
এরপর রিয়াজ বেপারী ওই কিশোরীকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লায় সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে তার দুই বন্ধু সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারী কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন মোল্লা, ওসমান বেপারী ও রিয়াজ বেপারীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে এমন একটি বার্তা পৌঁছাবে।