জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজাকে পাটক্ষেতে জবাই করে হত্যার দায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় দেন। রায়ের সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাখাওয়াত (২৩), সোহেল (২১), আল আমিন (২১), সাদ্দাম (২১), উজ্জ্বল (২১), অন্তর (২১) ও ফয়জুর (২৩)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁন মিয়া (৩১), মো. জিয়ার (৩৬), শাহ আলম (২০), কাওসার (২২), রিফাত (২২), সুমন (২১) ও মোস্তফা (৪০)।
তাদের সবার বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায়।
আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় ২০১৬ সালে ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে আসামিরা মহর আলী ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে আসামি সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের উপজেলার বানিয়াপাড়া চর এলাকায় একটি পাটক্ষেতে নেওয়া হয়। সেখানে মহর আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করা হয়।
একইভাবে হত্যা করা হয় স্বপন মিয়াকেও। ঘটনার তিন দিন পর ১৯ মে পাটক্ষেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















