কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ তেলের পাম্পের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয়টি অবৈধ তেলের পাম্প সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পাম্প মালিককে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা ও তাজিয়াকাটা এলাকায় সরকারি খাল দখল করে বাঁধ নির্মাণ, অননুমোদিত জেটি ও বার্জ স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে তেলের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র এসব স্থাপনা তৈরি করে সেখানে একাধিক তেলের পাম্প পরিচালনা করে আসছিল।
অভিযানকালে তাজিয়াকাটা ঘাটে একটি অবৈধ তেলের পাম্প সিলগালা করা হয়। এ সময় ওই পাম্পের এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই এলাকায় সরকারের এক ‘সচিবের আত্মীয়’ পরিচয়ে এবং দৈলারপাড়ার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত আরেকটি পাম্পও সিলগালা করে প্রশাসন।
পরে অভিযানকারী দল ঘটিভাঙ্গা ঘাটে যায়। সেখানে কুতুবজোমের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মালিকানাধীন একটি অবৈধ তেলের পাম্প সিলগালা করার পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ঘটিভাঙ্গার মেসার্স ফারহান ট্রেডার্স, সোনামিয়ার মালিকানাধীন বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এবং শাহেদ খানের মালিকানাধীন মদিনা ট্রেডার্সও সিলগালা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পাম্পের অনেকগুলোরই বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র ছিল না। বৈধ ডিলারশিপ না থাকার পরও অন্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের পাশাপাশি গভীর রাতে সমুদ্রপথে বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও কয়েকটি পাম্প ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর ফলে বিভিন্ন সময় এলাকায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সরকারি খাল দখল এবং অবৈধভাবে তেলের পাম্প পরিচালনার বিষয়টি অনুসন্ধানের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে শুধু পাম্প সিলগালা ও জরিমানা নয়, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে অবৈধ জেটি ও বার্জ স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী
আবু হেনা মোহাম্মদ আসিফ, মহেশখালী 


















