ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ মল্লিক আর নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একদিনে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪  দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় ৬ কেজি গাঁ’জা’সহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভোলাহাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা মুক্তা চলে গেলেন না ফেরার দেশে পীরগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার যুগল সাফল্যে বোরহানউদ্দিনে উপসচিব হলেন পীযূষ চন্দ্র দে ও শুভ্রা দাস ইনফান্তিনোর সমালোচনার জেরে চাকরি গেল ফিফার সিওওর গোপালগঞ্জে বাসে তল্লাশি, ৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার- ৪

দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে ২২৪৭ বন্দি কারাগার ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক। নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল ৮২৬ বন্দি। এরমধ্যে নরসিংদী কারাগারের ১৬৬ বন্দির ডাটা আমরা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়েছিল। তারমধ্যে ৬ জন এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি তিনজন পলাতক।
সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, সবশেষ জুয়েল নামে একজন গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।’

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু কারাগার পরিচালনা করা নয়; বরং এমন একটি আধুনিক সংশোধনমূলক সেবা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা ও কল্যাণ সমান গুরুত্ব পাবে।

কারাগারে মাদক ঢুকছে এবং কারারক্ষীরাও এতে জড়িত—এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘মাদক ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছি। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর। গত দুই বছরে এসব কারণে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ছোটখাটো অপরাধে ৩০৩ জনকে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো কারারক্ষী যদি মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ মল্লিক আর নেই

দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

আপডেট সময় ০৪:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে ২২৪৭ বন্দি কারাগার ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক। নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল ৮২৬ বন্দি। এরমধ্যে নরসিংদী কারাগারের ১৬৬ বন্দির ডাটা আমরা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়েছিল। তারমধ্যে ৬ জন এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি তিনজন পলাতক।
সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, সবশেষ জুয়েল নামে একজন গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।’

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু কারাগার পরিচালনা করা নয়; বরং এমন একটি আধুনিক সংশোধনমূলক সেবা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা ও কল্যাণ সমান গুরুত্ব পাবে।

কারাগারে মাদক ঢুকছে এবং কারারক্ষীরাও এতে জড়িত—এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘মাদক ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছি। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর। গত দুই বছরে এসব কারণে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ছোটখাটো অপরাধে ৩০৩ জনকে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো কারারক্ষী যদি মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।