ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে রামপাল সচল রাখতে প্রকৌশলীদের মরিয়া চেষ্টা ইইডির প্রকৌশলীর টেবিলে টাকার লেনদেন, ‘স্যারের কাছে ৫ লাখ টাকা রেখে যান’ ৫ ভাইয়ের দাপটে জিম্মি বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় ঘুষ-দুর্নীতি ও সরকারি গাড়ির অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচনায় ঠাকুরগাঁও এলজিইডির প্রকৌশলী মামুন সেই ফজলুল হকই এখন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির দোয়া মাহফিল কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূইঁয়া কে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলা তৃণমূলে যুবদল নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী ও যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া ও ইকবাল হোসেন
বিগত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে তৃণমূলের পাশে থাকা এই নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের এমন বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানাযায়, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুরের আইনি অঙ্গনে একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মানবিক মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি যখন চরম রাজনৈতিক সংকট, মামলা-হামলা ও জুলুমের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তিনি ঢাল হয়ে তৃণমূলের অসহায় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে শত শত নেতা-কর্মীকে তিনি আইনি সুরক্ষা ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিয়ে গেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে দল থেকে অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে নানা-মুখী আলোচনা-সমালোচনা এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেক নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় এই পদক্ষেপকে দলের জন্য একটি ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাঠপর্যায়ের কর্মী আরও জানান, দলের কঠিন সময়ে যারা নিজেদের জীবন, পরিবার ও পেশাকে ঝুঁকিতে ফেলে রাজপথে এবং আদালতে লড়েছেন, সু-সময়ে এসে তাদের এভাবে মূল্যায়ন না করে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরণের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকলে আগামীতে ত্যাগী কর্মীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত, নিঃস্বার্থ ও জনবান্ধব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া মাঠপর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড এবং ঐক্যে মারাত্মক নৈতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কারণ দেখিয়েছে কি না—তা নিয়ে তৃণমূলের মাঝে এখনও ধোঁয়াশা ও অসন্তোষ কাটেনি।

উল্লেখ্য যে, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্যাডে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও সুমন চৌধুরীকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানানো হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে রামপাল সচল রাখতে প্রকৌশলীদের মরিয়া চেষ্টা

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা

আপডেট সময় ১১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূইঁয়া কে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলা তৃণমূলে যুবদল নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী ও যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া ও ইকবাল হোসেন
বিগত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে তৃণমূলের পাশে থাকা এই নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের এমন বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানাযায়, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুরের আইনি অঙ্গনে একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মানবিক মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি যখন চরম রাজনৈতিক সংকট, মামলা-হামলা ও জুলুমের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তিনি ঢাল হয়ে তৃণমূলের অসহায় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে শত শত নেতা-কর্মীকে তিনি আইনি সুরক্ষা ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিয়ে গেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে দল থেকে অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে নানা-মুখী আলোচনা-সমালোচনা এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেক নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় এই পদক্ষেপকে দলের জন্য একটি ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাঠপর্যায়ের কর্মী আরও জানান, দলের কঠিন সময়ে যারা নিজেদের জীবন, পরিবার ও পেশাকে ঝুঁকিতে ফেলে রাজপথে এবং আদালতে লড়েছেন, সু-সময়ে এসে তাদের এভাবে মূল্যায়ন না করে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরণের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকলে আগামীতে ত্যাগী কর্মীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত, নিঃস্বার্থ ও জনবান্ধব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া মাঠপর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড এবং ঐক্যে মারাত্মক নৈতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কারণ দেখিয়েছে কি না—তা নিয়ে তৃণমূলের মাঝে এখনও ধোঁয়াশা ও অসন্তোষ কাটেনি।

উল্লেখ্য যে, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্যাডে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও সুমন চৌধুরীকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানানো হয়।