ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার নিশ্চিতের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ শ্রমিক ফেডারেশন এনসিটিবিতে দুর্নীতির মহোৎসব, এক বছরেই ২,৭১১ কোটি টাকার অনিয়ম টাঙ্গাইলে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ ফরিদপুরে আরেক ভূমি কর্মকর্তার টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ৩৬৯০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সিন্ডিকেটের তৎপরতা চেয়ারম্যান-এমডি মিলে গিলে খাচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক গ্রামে ঢুকে বাড়িতে বাড়িতে আগুনের পর গুলি, শিশুসহ নিহত ৩০ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি আইনজীবীদের হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন  বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে ড্যাব নেতা সেলিমের আধিপত্য
২য় পর্ব

চেয়ারম্যান-এমডি মিলে গিলে খাচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক

দেশের চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অন্যতম এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসিকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘন, অতিরিক্ত ব্যয়, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতির মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তৌহিদুল আলম খানের বিরুদ্ধে।
২০২৫ সালের ১২ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধান অনুযায়ী একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে পারেন। কিন্তু এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে পুরো বোর্ডই স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে গঠন করা হয়েছে। নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকের আমানত ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং খেলাপি ঋণের হার ছিল ৫ শতাংশের নিচে। সেই সময় ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে ছিল ব্যাংকটি। কিন্তু নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো বক্তব্য দেওয়া, কর্মকর্তাদের প্রতি অবিশ্বাস এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ব্যাংকটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং বোর্ড সভায় কর্মকর্তাদের প্রমাণ ছাড়াই ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক সংখ্যক বোর্ড সভা আয়োজন করা হয়। জানা যায়, গত এক বছরে ৩৩টি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভায় সম্মানী, আপ্যায়ন ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাব-কমিটির সভা বাড়িয়ে অতিরিক্ত সম্মানী নেওয়ার অভিযোগও আছে। শুরুতে পরিচালকদের বোর্ড সভার সম্মানী ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে আবার আগের পরিমাণে নামিয়ে আনা হয়।
চেয়ারম্যানের জন্য প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে বাথরুম সংস্কার, প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি কেনার উদ্যোগ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের নামে অতিরিক্ত ব্যয় এবং ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বিজনেস কনফারেন্স আয়োজন করে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ১০টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য ৪৩ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির বেশ কয়েকজন বড় শেয়ার হোল্ডারদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এমনভাবে আয়োজন করা হয় যাতে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডাররা অংশ নিতে না পারেন। পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত এজেন্ডা বাদ দেওয়া, আমন্ত্রণপত্র যথাসময়ে না পাঠানো, অখ্যাত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার মতো অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান এমডি ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে নিজের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিএমডি, সিএফও, সিএইচআরও, সিএলও এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রধানসহ বিভিন্ন পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। চেয়ারম্যান নিজের ঘনিষ্ঠ একজনকে পদোন্নতি দিয়ে উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত দুই মাসে ব্যাংকটি প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন মুনাফাও কমেছে। আগের বছরে যেখানে পরিচালন মুনাফা ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, সেখানে বর্তমান বোর্ডের অধীনে তা কমে ৪৫৭ কোটিতে নেমে এসেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতা এবং গ্রাহকদের আস্থা কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে অনেক কর্মকর্তা মনে করেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এনআরবিসি ব্যাংক আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং একই সঙ্গে ব্যাংকে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়াকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ব্যাংকটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, আমার বিষয়ে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০২৫ সালে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেওয়ার পর নতুন যে বোর্ড গঠন করা হয়েছে সেই বোর্ডের সিদ্বান্ত অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালনা হচ্ছে। এখানে কোন অনিয়ম বা ব্যত্যয় হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। তবে মিটিংয়ের ভাতার বিষয়টি পরিবর্তন করলেও পরবর্তীতে আগের ১০,০০০ টাকায় নিয়ে আসা হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। এনআরবিসি সিকিউরিটিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, আলাদা চেয়ারম্যান আছেন, তারাই এ বিষয়ে সিদ্বান্ত নেন। ব্যাংকের গাড়ি কেনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন পাশাপাশি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার নিশ্চিতের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ শ্রমিক ফেডারেশন

২য় পর্ব

চেয়ারম্যান-এমডি মিলে গিলে খাচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক

আপডেট সময় ০১:২২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেশের চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অন্যতম এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসিকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘন, অতিরিক্ত ব্যয়, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতির মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তৌহিদুল আলম খানের বিরুদ্ধে।
২০২৫ সালের ১২ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধান অনুযায়ী একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে পারেন। কিন্তু এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে পুরো বোর্ডই স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে গঠন করা হয়েছে। নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকের আমানত ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং খেলাপি ঋণের হার ছিল ৫ শতাংশের নিচে। সেই সময় ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে ছিল ব্যাংকটি। কিন্তু নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো বক্তব্য দেওয়া, কর্মকর্তাদের প্রতি অবিশ্বাস এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ব্যাংকটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং বোর্ড সভায় কর্মকর্তাদের প্রমাণ ছাড়াই ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক সংখ্যক বোর্ড সভা আয়োজন করা হয়। জানা যায়, গত এক বছরে ৩৩টি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভায় সম্মানী, আপ্যায়ন ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাব-কমিটির সভা বাড়িয়ে অতিরিক্ত সম্মানী নেওয়ার অভিযোগও আছে। শুরুতে পরিচালকদের বোর্ড সভার সম্মানী ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে আবার আগের পরিমাণে নামিয়ে আনা হয়।
চেয়ারম্যানের জন্য প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে বাথরুম সংস্কার, প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি কেনার উদ্যোগ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের নামে অতিরিক্ত ব্যয় এবং ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বিজনেস কনফারেন্স আয়োজন করে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ১০টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য ৪৩ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির বেশ কয়েকজন বড় শেয়ার হোল্ডারদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এমনভাবে আয়োজন করা হয় যাতে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডাররা অংশ নিতে না পারেন। পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত এজেন্ডা বাদ দেওয়া, আমন্ত্রণপত্র যথাসময়ে না পাঠানো, অখ্যাত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার মতো অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান এমডি ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে নিজের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিএমডি, সিএফও, সিএইচআরও, সিএলও এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রধানসহ বিভিন্ন পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। চেয়ারম্যান নিজের ঘনিষ্ঠ একজনকে পদোন্নতি দিয়ে উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত দুই মাসে ব্যাংকটি প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন মুনাফাও কমেছে। আগের বছরে যেখানে পরিচালন মুনাফা ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, সেখানে বর্তমান বোর্ডের অধীনে তা কমে ৪৫৭ কোটিতে নেমে এসেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতা এবং গ্রাহকদের আস্থা কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে অনেক কর্মকর্তা মনে করেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এনআরবিসি ব্যাংক আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং একই সঙ্গে ব্যাংকে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়াকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ব্যাংকটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, আমার বিষয়ে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০২৫ সালে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেওয়ার পর নতুন যে বোর্ড গঠন করা হয়েছে সেই বোর্ডের সিদ্বান্ত অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালনা হচ্ছে। এখানে কোন অনিয়ম বা ব্যত্যয় হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। তবে মিটিংয়ের ভাতার বিষয়টি পরিবর্তন করলেও পরবর্তীতে আগের ১০,০০০ টাকায় নিয়ে আসা হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। এনআরবিসি সিকিউরিটিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, আলাদা চেয়ারম্যান আছেন, তারাই এ বিষয়ে সিদ্বান্ত নেন। ব্যাংকের গাড়ি কেনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন পাশাপাশি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন।