সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের অভিনয়, নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া, এরপর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল—এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এমন একটি কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী, এক পুলিশ সদস্য এবং আরেকজন পুরুষ রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলতেন। ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জনের পর প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। এরপর কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো।
পুলিশের তথ্যমতে, সর্বশেষ সায়মন নামে এক যুবক এই চক্রের ফাঁদে পড়েন। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে বিশ্বাসপাড়া এলাকার একটি ভবনের সপ্তম তলার একটি কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে প্রবেশের পর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বারান্দায় গিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারী ও দুই পুরুষকে আটক করে। অভিযানের সময় এক অভিযুক্তের কাছ থেকে পুলিশের ব্যবহৃত একটি হ্যান্ডকাফ ও একটি পুলিশি কটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য এবং ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে চক্রটির নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ আহমেদ তারা-কালিয়াকৈর গাজীপুর প্রতিনিধি 




















