ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিনে-রাতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে মোমবাতি কিংবা হারিকেনের আলোতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
অন্যদিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ফ্রিজ-নির্ভর ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, মাংসের দোকান, কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষি সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায় আর আসে তার কোনো হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ প্রতি মাসেই নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।”
গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে অধিকাংশ সময় ‘গ্রিডে সমস্যা’ কিংবা ‘ফিডার ট্রিপ করেছে’—এমন কারণ জানানো হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বায়েক ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দাবি, তীব্র গরম ও চলমান ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
কসবা প্রতিনিধি : মোরশেদ আলম 




















