লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মাদক কারবারীদের অতর্কিত হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। অপর পুলিশ কর্মকর্তা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন হাতীবান্ধা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রুহুল আমিন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) আব্দুল লতিফ। গুরুতর আহত এসআই রুহুল আমিন বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী জানান, গেন্দুকুড়ি এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের ছেলে ও মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদুল হক রাশেদকে গ্রেপ্তার করতে এসআই রুহুল আমিন ও এএসআই আব্দুল লতিফ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় রাশেদ এবং তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় এসআই রুহুল আমিনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় এএসআই আব্দুল লতিফও আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই রুহুল আমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় তাকে রংপুরের একটি বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ওসি রমজান আলী আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদুল হক রাশেদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “মাদক কারবারীদের হামলায় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। গুরুতর আহত এসআই রুহুল আমিনের অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকেও মাঠে নামানো হয়েছে।”
মোঃ মিজানুর রহমান লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি 





















