সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক থেকে বাঁচতে নিজেদের ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করতে হবে : সেনাপ্রধান লালমনিরহাটে মাদক কারবারীদের হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ফুলবাড়ীতে ১৫ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা আম বেচাকেনার সম্ভাবনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল বর্ষসেরা রিপোর্টার’ সম্মাননায় ভূষিত আহসান হাবিব মিলন ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, গত ৯ দিনে ১০৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি পীরগঞ্জে পোদ্দার বাড়ীতে ডাকাতি!

ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, গত ৯ দিনে ১০৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। গত ১৭ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৯দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫১ জন রোগী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিলেন ১০৫ জন। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১৭ জুন ১৫ জন, ১৮ জুন ১১ জন, ১৯ জুন ৯ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২১ জুন ০৭ জন, ২২ জুন ০৭ জন, ২৩ জুন ১০ জন, ২৪ জুন ১৫ এবং ২৫ জুন ১৭ জন রয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ৫০ শয্যার হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জুন মাস শুরু থেকেই প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

গ্রামাঞ্চলেও পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।

একই কথা জানালেন, মাদিলাহাট এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, জুন মাস শুরু থেকেই কমবেশি পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যেসব রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর সেগুলোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি থাকছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বাসুদেবপুর গ্রামের এক শিশুর মা জানান, বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় সন্তুষ্ট তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আবহাওয়া জনিত, ঠান্ডা-গরম ও বাইরের খাবারের কারণে পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুরাই বেশি থাকছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা দু-একদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালের শয্যা সংকট থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিদিন বিভিন্ন আক্রান্ত হয়ে গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন, যা নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি। তবুও সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে বাঁচতে নিজেদের ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করতে হবে : সেনাপ্রধান

ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, গত ৯ দিনে ১০৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় ০২:৫০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। গত ১৭ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৯দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫১ জন রোগী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিলেন ১০৫ জন। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১৭ জুন ১৫ জন, ১৮ জুন ১১ জন, ১৯ জুন ৯ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২১ জুন ০৭ জন, ২২ জুন ০৭ জন, ২৩ জুন ১০ জন, ২৪ জুন ১৫ এবং ২৫ জুন ১৭ জন রয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ৫০ শয্যার হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জুন মাস শুরু থেকেই প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

গ্রামাঞ্চলেও পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।

একই কথা জানালেন, মাদিলাহাট এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, জুন মাস শুরু থেকেই কমবেশি পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যেসব রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর সেগুলোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি থাকছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বাসুদেবপুর গ্রামের এক শিশুর মা জানান, বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় সন্তুষ্ট তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আবহাওয়া জনিত, ঠান্ডা-গরম ও বাইরের খাবারের কারণে পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুরাই বেশি থাকছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা দু-একদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালের শয্যা সংকট থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিদিন বিভিন্ন আক্রান্ত হয়ে গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন, যা নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি। তবুও সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।