বান্দরবানের লামা উপজেলার ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই বনবিট কর্মকর্তা করিমের সাথে অবৈধ বাঁশ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের সাথে যোগসাজশে কাঁচা তাজা কাটা বাঁশ পাচারের হিড়িক। যা বর্তমান সময়ে বন আইন ও বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতি প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার মত সামিল।
লামা-গজালিয়া সুয়ালক সড়কের বুড়ির ঝিরি এলাকা থেকে শুরু করে নোয়াপাড়া,ফারেংগা ব্রিজ, ডিসিরোড রাবার বাগান,বাইশফাঁড়ি, কম্পানিয়া,ডিগ্রিখোলা বাজার,আন্ধারী হিমছড়ি মুজিবের দোকান,আমতলী বাজার,লম্বাখোলা সহ কোয়ান্টাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ কাঁচা বাঁশ মজুত করিয়া রাখার অভিযোগ উঠিয়াছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন বাঁশের প্রজনন মৌসুম চলাকালীন সময়ে এভাবে কাঁচা বাঁশ কেটে সংগ্রহ ও পরিবহনের প্রস্তুতি বন আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হতে পারে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,লামা থেকে গজালিয়া ও সরই ইউনিয়নে রওনা হলে দেখা যায়,শতশত পৃথক স্থানে কাঁচা বাঁশের স্তূপ লক্ষ্য করা যায়।পরবর্তীতে আরও নিকটবর্তী এলাকায় তিনটি পৃথক স্পটে জিপ ও কাটা-পিকআপ গাড়িতে কাঁচা বাঁশ লোড অবস্থায় সহ রাস্তার দুই পার্শ্বে বাঁশ মজুত করে রাখার দৃশ্যের দেখা যায়।পরবর্তীতে সরই ইউনিয়ন থেকে লামার উদ্দেশ্যে ফেরার সময়,অর্থাৎ বিকাল প্রায় ৪টার দিকে পুনরায় একই স্থানসমূহে বাঁশের মজুত ও লোডকৃত যানবাহন সমূহ ঠিক তখনও সেখানে অবস্থান করছিল।
স্থানীয়দের ধারণা মতে, যেকোনো সময় বৃহৎ আকারের পরিবহনযোগে উক্ত বাঁশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে নেওয়া হতে পারে।বিশেষজ্ঞগণ বলেন জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস বাঁশের প্রজননকাল। এ সময়ে অপরিপক্ব বা কাঁচা বাঁশ নির্বিচারে কর্তন করা হইলে বাঁশঝাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি,বংশবিস্তার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে। ফলে বনজ সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
লামার স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি সরই বিট কমকর্তা করিম ও অবৈধ কাঁচা তাজা কাটা বাঁশ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের যোগসাজশের যে গুঞ্জন ওঠেছে সেই বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ,প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে,কাঁচা বাঁশের অবৈধ মজুত, পরিবহন ও পাচার রোধে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না হইলে বনজ সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজ রহমান সহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান পরিচালনা, বাঁশের উৎস যাচাই এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়াছেন।
বান্দরবান প্রতিনিধি 



















