অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) চালু রেখে কর্মস্থল ত্যাগ এবং সরকারি দাপ্তরিক মোবাইল নম্বর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বরে ‘ফরওয়ার্ড’ করে রাখার মতো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদের বিরুদ্ধে। আজ রবিবার (২১জুন) দুপুর ১২ সময় দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন এবং দৈনিক সকালবেলা পত্রিকার সাংবাদিকরা সরাসরি দেখেন উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ নিজের কার্যালয়ের কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) চালু রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মিটিংয়ে চলে যান। দীর্ঘক্ষণ রুম খালি থাকলেও সরকারি বিদ্যুতের এমন অপচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ থাকে যে, নীতিমালা অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার কক্ষে সরকারি খরচে এসি লাগানোর সরাসরি কোনো নিয়ম নেই।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এবং সরকারি কাজের প্রয়োজনে তার দাপ্তরিক সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। দেখা যায়, ৯ম গ্রেডের প্রথম শ্রেণীর একজন গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার সরকারি নম্বরটি নিজের কাছে না রেখে, তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ‘ফরওয়ার্ড’ করে রেখেছেন। ওই নম্বরে কল করা হলে প্রকৌশলী মুজাহিদের স্ত্রী ফোন রিসিভ করে সরাসরি স্বীকার করেন যে, সরকারি নম্বরটি তার নম্বরের সাথে ফরওয়ার্ড করা আছে। দাপ্তরিক ফোন এভাবে পরিবারের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করাকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও দাপ্তরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান মুঠোফোনে বলেন, উনি যে কাজটা করেছেন তা করা উচিত না। সরকারি বিদ্যুৎ ক্রাইসিস’র সময় সরকারি বিদ্যুৎ অপচয় করা ঠিক না এবং এসি লাগানোর ব্যাপারে আমার কোন ধারনা নাই।
এর আগে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক নিউজও প্রকাশিত হয়, নিজের স্বাক্ষরিত একটি গোপন আদেশের মাধ্যমে কমলনগর উপজেলা সৃষ্টির পর থেকে জমাকৃত অফিসের সকল উন্নয়ন কাজের ফাইল ও পুরনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এভাবে গায়েব করার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই উপজেলায় যোগদানের পরপরই তিনি উপজেলার রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে নামমাত্র ৬টি কাল্পনিক প্রকল্প দেখিয়ে ৩৩ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেন। যা নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপজেলা রাজস্ব তহবিল, রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং উপজেলা হাটবাজার উন্নয়ন তহবিলের অর্থ বরাদ্দেও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জনগুরুত্বপূর্ণ নয়—এমন প্রায় ৩০টি নামসর্বস্ব প্রকল্পকে ‘জনগুরুত্বপূর্ণ’ দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে তথ্য মিলেছে।
এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি দাপ্তরিক ফোন ফরওয়ার্ড করে রাখার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























