ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

এসআরডিআইর আওয়ামী সিণ্ডিকেট

এসআরডিআইর একাধিক কর্মকর্তা সম্পর্কে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং পদায়ন সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা অতীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আমির মোহাম্মদ জাহিদ, মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ, নীলিমা আক্তার কোহিনুর এবং আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহণ বা নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন যে, ওই সমাবেশের ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আমির মোহাম্মদ জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি অতীতে ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করতেন এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

মামুনুর রহমান সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপিবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তাকে সমন্বয় করে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, পোস্টারিং এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য সরবরাহের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাচিত সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। একইসঙ্গে এসআরডিআইর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার উপকমিটিতে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নীলিমা আক্তার কোহিনুর সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি নির্বাচিত পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশে অংশ নেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদায়ন সুবিধা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন যে, কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, পোস্টারিং এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নামও এসেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে নথিপত্র, অডিও, ভিডিও বা প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি উঠতে

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

এসআরডিআইর আওয়ামী সিণ্ডিকেট

আপডেট সময় ০৯:০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এসআরডিআইর একাধিক কর্মকর্তা সম্পর্কে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং পদায়ন সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা অতীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আমির মোহাম্মদ জাহিদ, মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ, নীলিমা আক্তার কোহিনুর এবং আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহণ বা নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন যে, ওই সমাবেশের ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আমির মোহাম্মদ জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি অতীতে ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করতেন এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

মামুনুর রহমান সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপিবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তাকে সমন্বয় করে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, পোস্টারিং এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য সরবরাহের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাচিত সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। একইসঙ্গে এসআরডিআইর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার উপকমিটিতে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নীলিমা আক্তার কোহিনুর সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি নির্বাচিত পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং ৪ আগস্টের শান্তি সমাবেশে অংশ নেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদায়ন সুবিধা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন যে, কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, পোস্টারিং এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নামও এসেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে নথিপত্র, অডিও, ভিডিও বা প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি উঠতে