সংবাদ শিরোনাম ::

সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

নবাবগঞ্জ ও ধামরাইয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের সম্পদের পরিমাণ এবং তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সেই সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য, জমির নথি এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরি জীবনের তুলনামূলক স্বল্প সময়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস এবং মালিকানা বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ১৪ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেন নাজমুল হাসান। বর্তমানে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরিতে তার কর্মজীবনের মোট আয়, বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা, টিএ/ডিএ এবং অন্যান্য বৈধ সুবিধা মিলিয়ে আনুমানিক যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা, তার সঙ্গে তার নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণের তুলনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমুল হাসানের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারের জীবনযাত্রা, সন্তানদের ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব বিষয় এককভাবে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়, তবুও আয়ের উৎস ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মানিকগঞ্জ জেলায় নাজমুল হাসান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় একটি ফ্ল্যাট তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। একই এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনেও একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে এসব সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।

এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে এলাকায় জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্বশুরবাড়ির এলাকায় মাছ চাষের জন্য কয়েক একর জমিতে ঘের স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামেও জমি ক্রয়ের তথ্য স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় এত বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া উচিত। তবে অভিযোগের পক্ষে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।

দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের জন্য তার সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ক্রয়ের দলিল এবং অর্থের উৎস বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সম্পদের পরিমাণ দেখে অবৈধ আয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলো সম্পর্কে নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদনের জন্য তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সম্পদ যাচাই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত ঘোষণা—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।

নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাইয়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনমত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নবাবগঞ্জ ও ধামরাইয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের সম্পদের পরিমাণ এবং তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সেই সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য, জমির নথি এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরি জীবনের তুলনামূলক স্বল্প সময়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস এবং মালিকানা বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ১৪ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেন নাজমুল হাসান। বর্তমানে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরিতে তার কর্মজীবনের মোট আয়, বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা, টিএ/ডিএ এবং অন্যান্য বৈধ সুবিধা মিলিয়ে আনুমানিক যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা, তার সঙ্গে তার নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণের তুলনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমুল হাসানের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারের জীবনযাত্রা, সন্তানদের ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব বিষয় এককভাবে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়, তবুও আয়ের উৎস ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মানিকগঞ্জ জেলায় নাজমুল হাসান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় একটি ফ্ল্যাট তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। একই এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনেও একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে এসব সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।

এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে এলাকায় জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্বশুরবাড়ির এলাকায় মাছ চাষের জন্য কয়েক একর জমিতে ঘের স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামেও জমি ক্রয়ের তথ্য স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় এত বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া উচিত। তবে অভিযোগের পক্ষে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।

দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের জন্য তার সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ক্রয়ের দলিল এবং অর্থের উৎস বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সম্পদের পরিমাণ দেখে অবৈধ আয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলো সম্পর্কে নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদনের জন্য তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সম্পদ যাচাই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত ঘোষণা—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।

নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাইয়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনমত।