বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই বেড়েছে সাপের উপদ্রব। আর এরই মধ্যে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের বড় মটুকপুর বাজারে দোকানের কার্টনে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের ছোবলে নাজিমুদ্দিন (নাজি) ইসলাম (৫৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বড় মটুকপুর বাজারে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিমুদ্দিন ইসলাম বড় মটুকপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত মসলেম উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিমুদ্দিন ইসলাম প্রতিদিনের মতো তিনি দোকান খোলেন। একপর্যায়ে দোকানে থাকা একটি বড় কার্টনের ভেতরে হাত দিলে সেখানে লুকিয়ে থাকা একটি সাপ তার ডান হাতের আঙুলে ছোবল দেয়। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে ইঁদুরের কামড় মনে করে গুরুত্ব দেননি। পরে স্থানীয়ভাবে হাত বেঁধে রাখা হলেও প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা কোনো চিকিৎসা নেওয়া হয়নি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা তাকে মোটরসাইকেলে করে পার্শ্ববর্তী লাহিড়ীর হাটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বিষক্রিয়া দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো:সাইদুল ইসলাম বলেন, নাজিমুদ্দিন আমাদের এলাকার অত্যন্ত পরিচিত একজন মানুষ ছিলেন। প্রতিদিনের মতো তিনি দোকান খুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কার্টনের ভেতরে থাকা সাপের ছোবলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাহত।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে দোকান, গুদামঘর, কার্টন ও ঝোপঝাড়ে সাপ আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই যেকোনো মালামাল স্পর্শের আগে সতর্কতা অবলম্বন এবং সাপে কামড় দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শফিউল মন্ডল (রংপুর) প্রতিনিধি 



















