ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫টি ফার্মেসিকে মোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড রোধ এবং নিরাপদ ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বুধবার (১৭ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো. ইকবাল হোসেন প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন ফার্মেসির কাগজপত্র, ঔষধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় কয়েকটি ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ানস স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনাও চিহ্নিত করা হয়। এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির। অভিযান শেষে তিনি বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনবিহীন কিংবা বিক্রয়ের অনুপযোগী ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফার্মেসিগুলোকে অবশ্যই সরকারি বিধিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সেবাগ্রহীতারা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালিত হলে ফার্মেসিগুলোর অনিয়ম কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসাসেবা ও মানসম্মত ঔষধ পেতে আরও বেশি আস্থা অর্জন করবে।
কসবা প্রতিনিধি: মোরশেদ আলম 


















