ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ কম্ব্যাট পাইলট হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায় জুয়ারিয়া ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ‘কাউকে ছাড় নয়’ ধামরাইয়ে রাইস মিল ও ৩ মিষ্টির দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা চামড়া শিল্পনগরী ও ঢাকার নিরাপত্তা জোরদারে বিটিএ’র পিকআপ ভ্যান উপহার কুষ্টিয়ার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আগুন হোসেনপুরে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মিনহাজ চৌধুরীর কব্জায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম! অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের রিপ্লাই দেন না প্রীতি জিনতা লুট করে দেশের অর্থনীতি শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে হাসিনা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকায় একতরফা তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে জামাইয়ের বাড়ি থেকে গরু ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাচারিপাড়া এলাকার মো:ওহেদ আলীর ছেলে মো:আলহাজ্ব ইসলামের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর আগে একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মো:তারাজুল ইসলামের মেয়ে সুখীমাই আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। পেশাগত কারণে আলহাজ্ব ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ জুন ডাকযোগে স্ত্রী সুখীমাই আক্তারের নামে একতরফা তালাকের নোটিশ পাঠান আলহাজ্ব ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইয়ের বাড়িতে এসে গরু, ধানসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আলহাজ্ব ইসলামের নানী আমছা বেগম দাবি করেন, বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি কয়েকদিন ধরে নাতির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তালাকের খবর জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের পরিবারের সদস্যরা এসে আগে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি গরুসহ আরও একটি গরু, ধান ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান। এ সময় বাড়ির কিছু অংশে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সুখীমাই আক্তার বলেন, তিনি এখনও স্বামীর বাড়িতেই রয়েছেন এবং কী কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার চার বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমি স্বামীর সংসার করতে চাই এবং ন্যায়বিচার চাই।
গরু নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর তার বাবা একটি গরু উপহার দিয়েছিলেন। ক্ষোভের বশে সেটি নিয়ে গেছেন। পরে আরও কিছু মালামাল নেওয়ার চেষ্টা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে সেগুলো রেখে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো:মোস্তাফিজার রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ডাক বিভাগের কর্মী তালাকের নোটিশ নিয়ে এলেও সুখীমাই আক্তার সেটি গ্রহণ করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, গরুটি মেয়ের বাবা দিয়েছিলেন বলে শুনেছি। তবে অন্যান্য আসবাবপত্রও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যা আমার অনুরোধে নেওয়া হয়নি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান এবং মেয়েটির প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার এএসআই সাহানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকায় কর্মরত স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্বশুরপক্ষের দেওয়া একটি গরু নিয়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ

তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকায় একতরফা তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে জামাইয়ের বাড়ি থেকে গরু ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাচারিপাড়া এলাকার মো:ওহেদ আলীর ছেলে মো:আলহাজ্ব ইসলামের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর আগে একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মো:তারাজুল ইসলামের মেয়ে সুখীমাই আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। পেশাগত কারণে আলহাজ্ব ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ জুন ডাকযোগে স্ত্রী সুখীমাই আক্তারের নামে একতরফা তালাকের নোটিশ পাঠান আলহাজ্ব ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইয়ের বাড়িতে এসে গরু, ধানসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আলহাজ্ব ইসলামের নানী আমছা বেগম দাবি করেন, বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি কয়েকদিন ধরে নাতির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তালাকের খবর জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের পরিবারের সদস্যরা এসে আগে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি গরুসহ আরও একটি গরু, ধান ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান। এ সময় বাড়ির কিছু অংশে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সুখীমাই আক্তার বলেন, তিনি এখনও স্বামীর বাড়িতেই রয়েছেন এবং কী কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার চার বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমি স্বামীর সংসার করতে চাই এবং ন্যায়বিচার চাই।
গরু নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর তার বাবা একটি গরু উপহার দিয়েছিলেন। ক্ষোভের বশে সেটি নিয়ে গেছেন। পরে আরও কিছু মালামাল নেওয়ার চেষ্টা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে সেগুলো রেখে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো:মোস্তাফিজার রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ডাক বিভাগের কর্মী তালাকের নোটিশ নিয়ে এলেও সুখীমাই আক্তার সেটি গ্রহণ করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, গরুটি মেয়ের বাবা দিয়েছিলেন বলে শুনেছি। তবে অন্যান্য আসবাবপত্রও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যা আমার অনুরোধে নেওয়া হয়নি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান এবং মেয়েটির প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার এএসআই সাহানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকায় কর্মরত স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্বশুরপক্ষের দেওয়া একটি গরু নিয়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।