ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আদিতমারীতে সার আইন লঙ্ঘনে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ কম্ব্যাট পাইলট হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায় জুয়ারিয়া ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ‘কাউকে ছাড় নয়’ ধামরাইয়ে রাইস মিল ও ৩ মিষ্টির দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা চামড়া শিল্পনগরী ও ঢাকার নিরাপত্তা জোরদারে বিটিএ’র পিকআপ ভ্যান উপহার কুষ্টিয়ার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আগুন হোসেনপুরে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মিনহাজ চৌধুরীর কব্জায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম! অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের রিপ্লাই দেন না প্রীতি জিনতা

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় সেই ‘অবুঝ’ সন্তানের করুণ মৃ’ত্যু

আবেগ আর অবুঝ জেদের চড়া মূল্য দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। বাবার রক্ত জল করা টাকায় কেনা সেই শখের মোটরসাইকেলই কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ। নওগাঁর নওহাটায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী চয়ন (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
​এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁর নওহাটা সংলগ্ন পীড়ার মোড়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ​ভাঙা সাইকেল চালানো বাবার কাছে দামি বাইকের জেদ
​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত চয়নের বাবা অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন মানুষ। যিনি নিজে একটি ব্রেকছাড়া ভাঙা বাইসাইকেল চালিয়ে টেনেটুনে সংসার চালান। নিজের সামান্য খরচের টাকাটা বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করেন তিনি। অথচ, তার ছেলে চয়ন একটি ‘সুজুকি জিক্সার’ মোটরসাইকেল কেনার জন্য টানা ২৭ দিন বাড়িতে ভাত না খেয়ে জেদ ধরে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত সন্তানের এমন অবুঝ জেদের কাছে হেরে গিয়ে, চয়নের বাবা ধার-দেনা করে ও হাড়ভাঙা খাটুনির জমানো টাকায় ছেলেকে সেই দামি মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন।
​রোববার সন্ধ্যায় নওহাটার পীড়ার মোড়ে মোটরসাইকেল ও অন্য একটি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চয়নসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
​সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে চয়নের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
​নিহত চয়ন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। সে সতীহাট ‘অনিক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার-মান্দা’র একজন কর্মচারী ছিল।
​চয়নের এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া ফেলেছে। একই সাথে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। ​সচেতন মহল বলছেন “আবেগ আর জেদ দিয়ে জীবন চলে না। বাবা-মায়ের সামর্থ্য আর কষ্টটা তরুণদের বুঝতে শেখা উচিত। একটা দামি বাইকের চেয়ে সন্তানের জীবনের মূল্য বাবা-মায়ের কাছে কোটি গুণ বেশি।
গতি আর ক্ষণিকের আনন্দের চেয়ে জীবনের নিরাপত্তাই আসল। আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিতমারীতে সার আইন লঙ্ঘনে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় সেই ‘অবুঝ’ সন্তানের করুণ মৃ’ত্যু

আপডেট সময় ০১:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
আবেগ আর অবুঝ জেদের চড়া মূল্য দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। বাবার রক্ত জল করা টাকায় কেনা সেই শখের মোটরসাইকেলই কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ। নওগাঁর নওহাটায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী চয়ন (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
​এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁর নওহাটা সংলগ্ন পীড়ার মোড়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ​ভাঙা সাইকেল চালানো বাবার কাছে দামি বাইকের জেদ
​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত চয়নের বাবা অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন মানুষ। যিনি নিজে একটি ব্রেকছাড়া ভাঙা বাইসাইকেল চালিয়ে টেনেটুনে সংসার চালান। নিজের সামান্য খরচের টাকাটা বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করেন তিনি। অথচ, তার ছেলে চয়ন একটি ‘সুজুকি জিক্সার’ মোটরসাইকেল কেনার জন্য টানা ২৭ দিন বাড়িতে ভাত না খেয়ে জেদ ধরে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত সন্তানের এমন অবুঝ জেদের কাছে হেরে গিয়ে, চয়নের বাবা ধার-দেনা করে ও হাড়ভাঙা খাটুনির জমানো টাকায় ছেলেকে সেই দামি মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন।
​রোববার সন্ধ্যায় নওহাটার পীড়ার মোড়ে মোটরসাইকেল ও অন্য একটি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চয়নসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
​সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে চয়নের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
​নিহত চয়ন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। সে সতীহাট ‘অনিক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার-মান্দা’র একজন কর্মচারী ছিল।
​চয়নের এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া ফেলেছে। একই সাথে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। ​সচেতন মহল বলছেন “আবেগ আর জেদ দিয়ে জীবন চলে না। বাবা-মায়ের সামর্থ্য আর কষ্টটা তরুণদের বুঝতে শেখা উচিত। একটা দামি বাইকের চেয়ে সন্তানের জীবনের মূল্য বাবা-মায়ের কাছে কোটি গুণ বেশি।
গতি আর ক্ষণিকের আনন্দের চেয়ে জীবনের নিরাপত্তাই আসল। আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়।