ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা সংকট, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৪৫০ কোটির ‘কিং’ নিয়ে আসছেন বাবা-মেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বন্যায় প্রাণহানি : রিজভী যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন বুশরা খান নিদ্রা প্রতারণা মামলায় বিএসবি গ্লোবালের খায়রুল বাশারের আরও ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রিকশা চালক নকির চরম অসহায় 

রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় শুয়ে দিনযাপন করছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক নকির। জীবনের প্রায় ৫০ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। মানুষ করেছেন দুই সন্তানকে। অথচ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। আর প্রশ্ন করছেন রাজশাহীতে কি কেউ  নেই যে তাকে একটা হুইল চেয়ার কিনে দিবে?
স্থানীয়রা বলেন, নকির ও তার স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের একমাত্র ভরসা তার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন স্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে
পাবে।
হাসনা বানু জানান, দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করেন। স্বল্প আয়ের কারণে তারা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন না। একটি হুইলচেয়ারের জন্য অনেকের কাছে গেছেন। অনেককে বলেছেন। কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াননি।
তিনি মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেন। সেই টাকার বেশির ভাগই স্বামীর ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়ে যায়। বাকি টাকায় কোনোমতে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার দাবি স্বামীর জন্য কেউ একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিবেন। সমাজের বিত্তবানদের একটু সহযোগিতা পেলে, নকির কিছুটা বেচে থাকার জন্য আশার আলো দেখতে পারেন ।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন

রিকশা চালক নকির চরম অসহায় 

আপডেট সময় ১২:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় শুয়ে দিনযাপন করছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক নকির। জীবনের প্রায় ৫০ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। মানুষ করেছেন দুই সন্তানকে। অথচ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। আর প্রশ্ন করছেন রাজশাহীতে কি কেউ  নেই যে তাকে একটা হুইল চেয়ার কিনে দিবে?
স্থানীয়রা বলেন, নকির ও তার স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের একমাত্র ভরসা তার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন স্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে
পাবে।
হাসনা বানু জানান, দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করেন। স্বল্প আয়ের কারণে তারা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন না। একটি হুইলচেয়ারের জন্য অনেকের কাছে গেছেন। অনেককে বলেছেন। কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াননি।
তিনি মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেন। সেই টাকার বেশির ভাগই স্বামীর ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়ে যায়। বাকি টাকায় কোনোমতে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার দাবি স্বামীর জন্য কেউ একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিবেন। সমাজের বিত্তবানদের একটু সহযোগিতা পেলে, নকির কিছুটা বেচে থাকার জন্য আশার আলো দেখতে পারেন ।