ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৯ মে) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়।

এর আগে, সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে তা বাতিল করেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন জানায়। অপরদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পৃথক আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। একই বিষয়ে আরেকটি আপিল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।

আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ, বদিউল আলম মজুমদার এবং আহসানুল করিমের করা আপিলগুলো একসঙ্গে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং ১৬ জুন আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে । একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিতকরণে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়। বলা হয়, অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে।

এরপর বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে (বিচারক) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার বিষয়ে গত ১৯ মে অফিস আদেশ জারি করে আইনমন্ত্রনালয়। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিচার শাখা-৩ এর এক স্মারকমূলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের (১৫ বিচারক) পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের (১৫ বিচারক) যোগদানপত্র ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয় অফিস আদেশে। অফিস আদেশে ভূতাপেক্ষভাবে যোগদানপত্র গ্রহণের তারিখ ১০ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

আপডেট সময় ০২:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৯ মে) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়।

এর আগে, সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে তা বাতিল করেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন জানায়। অপরদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পৃথক আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। একই বিষয়ে আরেকটি আপিল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।

আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ, বদিউল আলম মজুমদার এবং আহসানুল করিমের করা আপিলগুলো একসঙ্গে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং ১৬ জুন আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে । একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিতকরণে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়। বলা হয়, অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে।

এরপর বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে (বিচারক) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার বিষয়ে গত ১৯ মে অফিস আদেশ জারি করে আইনমন্ত্রনালয়। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিচার শাখা-৩ এর এক স্মারকমূলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের (১৫ বিচারক) পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের (১৫ বিচারক) যোগদানপত্র ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয় অফিস আদেশে। অফিস আদেশে ভূতাপেক্ষভাবে যোগদানপত্র গ্রহণের তারিখ ১০ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়।