সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ সংসদে ১০০ দিনের অপরাধের চিত্র তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পবিপ্রবির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বরগুনার গৌরিচন্নায় খাল থেকে ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার ব্যাংক হিসাব খুলতে ও চালু রাখতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে টিআইএন নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে পক্ষিয়ায়, মাঠে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস ভূইয়া পাংশা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর নিয়ামতপুরে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে এ সব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য আইডি ও পেজ, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের প্রধান, তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলো আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না, সেটি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলছে। নতুন আইনে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে।

পাশাপাশি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়গুলোও আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে মেটার মতো প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার সুযোগ নেই। ফলে বিটিআরসি বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরোধ পাঠালেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনে সেই সুযোগ এখনো নেই।’

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট নিষ্পত্তির জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে এখনো ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।

তিনি জানান, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ সংসদের চলতি অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:১২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে এ সব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য আইডি ও পেজ, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের প্রধান, তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলো আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না, সেটি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলছে। নতুন আইনে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে।

পাশাপাশি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়গুলোও আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে মেটার মতো প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার সুযোগ নেই। ফলে বিটিআরসি বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরোধ পাঠালেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনে সেই সুযোগ এখনো নেই।’

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট নিষ্পত্তির জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে এখনো ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।

তিনি জানান, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ সংসদের চলতি অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।