টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও শুক্রবার (৫ জুন) তা উপেক্ষা করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানে বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে শুক্রবার সকালেও তা উপেক্ষা করে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে জড়িতরা গরু-বাছুর, গোলার ধান ও বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে উভয় পক্ষ নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেয়। গোপালপুর অংশে মাইকিং করে অস্ত্র নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গোপালপুরের নলিন বাজার ও গুলিপেঁচা এবং ভূঞাপুরের জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, কয়েক মাস আগে সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে জগৎপুরা গ্রামের কয়েকশ মানুষ গুলিপেঁচা গ্রামে হামলা চালায়। অন্যদিকে জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের লোকজন নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ কালাম তালুকদারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু বলেন, একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও হঠাৎ আবার সংঘাত শুরু হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. সামসুল আলম সরকার বলেন, গোপালপুরের নলিন বাজার, গুলিপেঁচা এবং ভূঞাপুরের জগৎপুরা এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
জীবন আহমেদ রাব্বি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 




















