বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবাদ ও বক্তব্য প্রচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক বিদ্যমান ছিল। ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতের এক আদেশের মাধ্যমে তার বক্তব্য ও সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল ও বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ,হাইকোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী রিনা একটি রিট আবেদন করেন, যেখানে বাংলাদেশের সকল প্রচার মাধ্যম গুলোতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য সম্প্রচার এবং প্রচারের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন জানানো হয় /বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের তত্ত্বাবধানে ,বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারপতি আমলে নিয়ে ,রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের সকল প্রকার সংবাদ, প্রচার মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন |
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২শে আগস্ট বিচারপতি মোঃ খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি মোহাম্মদ খাইরুল আলমের বেঞ্চে কথিত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় |
প্রায় ১০ বছর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের প্রচার মাধ্যম গুলোতে নিষেধাজ্ঞা ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ,বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (বর্তমানে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ) যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ নেতা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী (৫ই আগস্ট এর পর পলাতক অবস্থায় ,যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ) মূল মাস্টারমাইন্ড যুক্তরাজ্যে আওয়ামীপন্থী জনমত পত্রিকার সাংবাদিক পরবর্তীতে বাংলা টিভির এমডি সৈয়দ সামাদুল হক (৫ই আগস্ট এর পর লন্ডনে পলাতক থাকার পর কথিত এক বিএনপি নেতার সাহায্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন )
ষড়যন্ত্রের মূল ঘটনা : উল্লেখিত তিন ব্যক্তি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক নেতা এবং মনে প্রানে বিএনপি বিদ্বেষী | যার প্রমাণ সঠিক অনুসন্ধান করলেই বেরিয়ে আসবে | সম্পূর্ণ ঘটনাটি জানতে পেরেছি তৎকালীন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ঘনিষ্ঠ নাম প্রকাশে এক মহিলা আইনজীবীর কাছ থেকে |
সংক্ষেপে ঘটনাটি ছিল , লন্ডনের প্রখ্যাত কলামিস্ট সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর অতি ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত সৈয়দ সামাদুল হক , আওয়ামী দরদী সেজে ,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ,বাংলাদেশে সম্প্রচারের জন্য বাংলা টিভি লাইসেন্স নেবার তদবির করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে পৌঁছান| এবং পুরনো ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ,সামাদুল হক এবং শফিক রহমান চৌধুরী বিচারপতি মানিকের হাইকোর্টের চেম্বারে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আড্ডার উদ্দেশ্যে গিয়ে হাজির হন | বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনীতির সামগ্রিক এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সকল সংবাদ প্রচার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে আলাপকালীন সময়ে ,সামাদুল হক প্রস্তাব করেন বিচারপতি মানিকের কাছে আইনত ভাবে বিষয়টি নিষিদ্ধ করার |
সাথে সাথে বিচারপতি মানিক এবং তার কয়েকজন আইনজীবী সহকর্মী মিলে আইনজীবী নাসরিন লিনাকে ডেকে পাঠিয়ে পরের দিন হাইকোর্টের রিট করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন , এবং বিচারপতি মানিক বিষয়টি কার্যকর করার দায়িত্ব নেন ,পরেরদিন প্লান মোতাবেক রিট করা হয় এবং আইনতভাবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য গুলো বাংলাদেশ আইনতভাবে নিষিদ্ধ করা হয় | সে সময় সামাদুল হক শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের চেম্বারে অবস্থান করছিলেন |
এখানে উল্লেখ্য,আওয়ামী লীগ দোসর সৈয়দ সামাদুল হক ,ছাত্র হত্যা মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা সহ কয়েকটি মামলার আসামি হয়েও দীর্ঘদিন লন্ডনে পালিয়ে থাকার পর , বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে |
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















