ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন -ভিসি ড.এস.এম হেমায়েত জাহান যে কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সি পরতে বাধ্য হচ্ছে আর্জেন্টিনা চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ব্রুনাই শ্রমবাজারে হাইকমিশনার নওরিন আহসানকে ঘিরে বিতর্ক জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ বিয়েবাড়িতে খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় তুমুল মারামারি নেপালে আবার কেন জেন-জি বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী? আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সমর্থন ট্রাম্প প্রশাসনের! রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে তিন কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

যশোরে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের নারীদের পরিবর্তে ৬২ ধনী পরিবারের নারীর নাম স্থান পেয়েছে। অনিয়ম ফাঁস হওয়ায় যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন অর রশীদসহ তিন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বাকি দুজন হলেন- সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেন৷

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অগ্রাধিকারভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পে যশোর সদর উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৪২ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় আনা হয়। গত ১৬ মে কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

ভাতুড়িয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশের সাথে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পরই চাচড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৮০ উপকারভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়। বাকি ৬২ নারী ধনী পরিবারেরর সদস্য হওয়ায় তাদের টাকা পাঠানো স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ে গাফিলতি ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণে গরিবের ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় ধনীদের নাম স্থান পেয়েছে। ৬২ ধনী পরিবারের মধ্যে অনেকের রয়েছে বহুতল বাড়ি। এদের ১ জন ৫ তলা বাড়ির মালিকের স্ত্রী। অনিয়ম ফাঁস হওয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কঠোর হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব রবিউল ইসলাম সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের পরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। এরমধ্যে উপপরিচালক হারুন অর রশীদকে জয়পুরহাটে, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামকে পাবনা ও ইতি দত্ত সেনকে গোপালগঞ্জে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যশোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আশিকুজ্জামান তুহিন জানান, যশোরে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পটি জেলা অফিস তদারকি করেছে। ধনীর তালিকায় পড়া ৬২ জন নারীর ফ্যামিলি কার্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে শুনেছেন।

উপপরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০৪২টি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা করা হয়েছিল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫৪ সমাজকর্মী সার্ভে জরিপ করেছিলেন। তালিকায় বহুতল ভবনের মালিকের স্ত্রীর বলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ৬২টি কার্ড স্থগিতও করিয়েছেন। তিনি সরকারি সার্ভে জরিপে ছিলেন না বলে দাবি করেন হারুন অর রশীদ। সরকারি আদেশে তারা তিনজন স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন -ভিসি ড.এস.এম হেমায়েত জাহান

ফ্যামিলি কার্ড তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে তিন কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

আপডেট সময় ০২:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

যশোরে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের নারীদের পরিবর্তে ৬২ ধনী পরিবারের নারীর নাম স্থান পেয়েছে। অনিয়ম ফাঁস হওয়ায় যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন অর রশীদসহ তিন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বাকি দুজন হলেন- সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেন৷

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অগ্রাধিকারভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পে যশোর সদর উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৪২ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় আনা হয়। গত ১৬ মে কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

ভাতুড়িয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশের সাথে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পরই চাচড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৮০ উপকারভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়। বাকি ৬২ নারী ধনী পরিবারেরর সদস্য হওয়ায় তাদের টাকা পাঠানো স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ে গাফিলতি ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণে গরিবের ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় ধনীদের নাম স্থান পেয়েছে। ৬২ ধনী পরিবারের মধ্যে অনেকের রয়েছে বহুতল বাড়ি। এদের ১ জন ৫ তলা বাড়ির মালিকের স্ত্রী। অনিয়ম ফাঁস হওয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কঠোর হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব রবিউল ইসলাম সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের পরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। এরমধ্যে উপপরিচালক হারুন অর রশীদকে জয়পুরহাটে, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামকে পাবনা ও ইতি দত্ত সেনকে গোপালগঞ্জে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যশোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আশিকুজ্জামান তুহিন জানান, যশোরে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পটি জেলা অফিস তদারকি করেছে। ধনীর তালিকায় পড়া ৬২ জন নারীর ফ্যামিলি কার্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে শুনেছেন।

উপপরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, চাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০৪২টি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা করা হয়েছিল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫৪ সমাজকর্মী সার্ভে জরিপ করেছিলেন। তালিকায় বহুতল ভবনের মালিকের স্ত্রীর বলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ৬২টি কার্ড স্থগিতও করিয়েছেন। তিনি সরকারি সার্ভে জরিপে ছিলেন না বলে দাবি করেন হারুন অর রশীদ। সরকারি আদেশে তারা তিনজন স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন।