সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নগদের প্রশাসক মুতাসেম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে ‘নগদ’ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি অফিসিয়াল নথিকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি নথিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মে মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে—একজন প্রশাসকের ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বহন করা হয়?
অন্য একটি নথিতে ‘দৈনিক মজুরি ভিত্তিক গৃহকর্মী’ বাবদ অর্থ পরিশোধের আবেদন দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় কর্মরত গৃহপরিচারিকার বেতন ‘নগদ’-এর কো-অপারেটিভ অ্যাকাউন্ট থেকে পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে তা প্রতিষ্ঠানের অর্থের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অনৈতিক প্রয়োগের শামিল।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিনের বিভিন্ন সভা, মিটিং ও অফিসিয়াল ইন্টারভিউ গ্রহণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিশেষ অফিসিয়াল ব্যয় হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, প্রশাসক হিসেবে তিনি মাসিক বেতনের পাশাপাশি বোনাস, ইনসেনটিভ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে ‘নগদ’-এর খরচে সার্বক্ষণিক গানম্যান বা দেহরক্ষী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অথচ তিনি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকর্তার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সমালোচকদের ভাষ্য, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় ও অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈতিকতা, সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

নগদের প্রশাসক মুতাসেম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে ‘নগদ’ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি অফিসিয়াল নথিকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি নথিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মে মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে—একজন প্রশাসকের ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বহন করা হয়?
অন্য একটি নথিতে ‘দৈনিক মজুরি ভিত্তিক গৃহকর্মী’ বাবদ অর্থ পরিশোধের আবেদন দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় কর্মরত গৃহপরিচারিকার বেতন ‘নগদ’-এর কো-অপারেটিভ অ্যাকাউন্ট থেকে পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে তা প্রতিষ্ঠানের অর্থের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অনৈতিক প্রয়োগের শামিল।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিনের বিভিন্ন সভা, মিটিং ও অফিসিয়াল ইন্টারভিউ গ্রহণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিশেষ অফিসিয়াল ব্যয় হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, প্রশাসক হিসেবে তিনি মাসিক বেতনের পাশাপাশি বোনাস, ইনসেনটিভ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে ‘নগদ’-এর খরচে সার্বক্ষণিক গানম্যান বা দেহরক্ষী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অথচ তিনি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকর্তার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সমালোচকদের ভাষ্য, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় ও অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিসিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈতিকতা, সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।