ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংকট থেকে কেবল বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করতে পারবে : অর্থমন্ত্রী দিনে টিকটক রাতে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ‘ভাইরাল’ ছিনতাইকারী খেলাধুলার শৃঙ্খলাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের সফল নেতৃত্ব: পবিপ্রবি উপাচার্য ১৩ লাখ দিলেই চাকরি নিশ্চিত’ সেই সুমনই ফের জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফের অভিবাসী ভিসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মুকসুদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও র‍্যালি ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ: কুমিল্লায় পুলিশ সুপারের সঙ্গে নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সাগরে লঘুচাপ, দেশের ৪ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত মোটরসাইকেলসহ গাড়ির মালিক-চালকদের বড় সুখবর দিল বিআরটিএ

সবুজ পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা, বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদী, পাহাড়চূড়ায় মেঘের রাজত্ব,আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা লামা উপজেলা এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এক সময় দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলা বর্তমানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা নান্দনিক কটেজ, রিসোর্ট ও ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত কাঠ ও বাঁশের কটেজগুলো যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে থাকা ছোট্ট স্বপ্নের ঘর। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়জুড়ে নেমে আসা সাদা মেঘের চাদর আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের বিমোহিত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোরবেলা পাহাড়চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয় যেন মেঘের সাগরের মধ্যে অবস্থান করছেন। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো, দূরের পাহাড়ের সারি এবং নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

লামার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাতামুহুরী নদী। পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা এই নদী লামার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। উঁচু পাহাড় থেকে নদীর মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির এমন অপূর্ব সমন্বয় দেশের অন্য অনেক পর্যটন কেন্দ্রেও বিরল।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন নতুন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক তরুণ এখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক লামায় ভিড় করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে মেঘের খেলা দেখতে এবং শীতকালে পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আগমন সবচেয়ে বেশি হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লামা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ের নির্জনতা, মেঘের মায়াবী স্পর্শ এবং মাতামুহুরী নদীর মোহনীয় রূপ—সব মিলিয়ে লামা আজ পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতায় বদলে যাচ্ছে লামার অর্থনীতি, জীবনযাত্রা এবং সম্ভাবনার দিগন্ত। তাই অনেকেই এখন বলছেন, “পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা—বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকট থেকে কেবল বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করতে পারবে : অর্থমন্ত্রী

সবুজ পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা, বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়

আপডেট সময় ০৭:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদী, পাহাড়চূড়ায় মেঘের রাজত্ব,আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা লামা উপজেলা এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এক সময় দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলা বর্তমানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা নান্দনিক কটেজ, রিসোর্ট ও ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত কাঠ ও বাঁশের কটেজগুলো যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে থাকা ছোট্ট স্বপ্নের ঘর। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়জুড়ে নেমে আসা সাদা মেঘের চাদর আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের বিমোহিত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোরবেলা পাহাড়চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয় যেন মেঘের সাগরের মধ্যে অবস্থান করছেন। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো, দূরের পাহাড়ের সারি এবং নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

লামার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাতামুহুরী নদী। পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা এই নদী লামার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। উঁচু পাহাড় থেকে নদীর মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির এমন অপূর্ব সমন্বয় দেশের অন্য অনেক পর্যটন কেন্দ্রেও বিরল।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন নতুন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক তরুণ এখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক লামায় ভিড় করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে মেঘের খেলা দেখতে এবং শীতকালে পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আগমন সবচেয়ে বেশি হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লামা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ের নির্জনতা, মেঘের মায়াবী স্পর্শ এবং মাতামুহুরী নদীর মোহনীয় রূপ—সব মিলিয়ে লামা আজ পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতায় বদলে যাচ্ছে লামার অর্থনীতি, জীবনযাত্রা এবং সম্ভাবনার দিগন্ত। তাই অনেকেই এখন বলছেন, “পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা—বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়।”