সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

লোকসানের ভয়ে ফুলবাড়ীতে কমেছে বড় গরু পালন, হাটের বেশির ভাগ গরুই ছোট ও মাঝারি

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমতে শুরু করেছে। তবে এবার আগের মতো বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। খামারিরা বলছেন, বড় গরু পালনে অতিরিক্ত খরচ হয়। তবে সেই তুলনায় কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় এখন ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

উপজেলার রুদ্রানী খামারি আল মামুনুর রশিদ ছয় বছর ধরে বিদেশি জাতের একটি বড় ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে গরুটির ওজন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কেজি। সে সময় বিভিন্ন পাইকার তার বাড়িতে গিয়ে গরুটির দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু আরও বেশি দামের আশায় তিনি গরুটি বিক্রি করেননি। শেষ পর্যন্ত ওই ঈদে গরুটি আর বিক্রি হয়নি। পরে আরও এক বছর গরুটি লালন-পালন করে গত বছর পশুর হাটে সেটি চার লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। অতিরিক্ত ওই এক বছরে গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানে পড়েন তিনি। এজন্য বড় গরু পালনের সাহস পাচ্ছেন না এখন।

অপর খামারি আব্দুল হানিফ বলেন, ‘বড় গরু পালতে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না।’

      শুধু আল মামুনুর রশিদ ও আব্দুল হানিফ নন, উপজেলার অনেক খামারি ও গৃহস্থের অভিজ্ঞতাও একই। খড়, ভুসি, খইল ও কাঁচা ঘাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতা এখন তুলনাম‚লক কম দামের ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে ঝুঁকছেন।

খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে বড় ষাঁড় গরু পালন করেছি। কিন্তু গ্রাহক কম ছিল, আবার কাঙ্খিত দামও মেলেনি। এ কারণে এবার খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুই বেশি লালন-পালন করেছি।’

ফুলবাড়ী উপজেলার আটপুকুরে মঙ্গলবার (১৯ মে) কোরবানির পশুর হাট বসেছিল। সকাল থেকেই পশু কেনাবেচা হয়েছে। হাটটির ইজারাদারের প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে হাটে অনেক বড় বড় গরু আসত। মানুষ শুধু দেখার জন্যও ভিড় করত। এখন খামারিরা বড় গরু আনতে ভয় পান। কারণ, বড় গরুর দাম ওঠে না। এবারও ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফুলবাড়ী পশুর হাট এবং গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী পশু হাটে গিয়েও একই চিত্র পাওয়া যায। সেখানেও বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যাই বেশি দেখা যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আছে। উপজেলায় ২৭ হাজার ৫০৩টি কোরবানীর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে উপজেলায় চাহিদা ২১ হাজার ৩৬৭ টি। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে ৬ হাজার ১৩৬টি পশু। ফলে অন্য জেলা ও উপজেলায় পশু সরবরাহের সম্ভাবনা আছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সারোয়ার হাসান বলেন, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খামারিরা এখন বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি পালন করছেন। বড় গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি। এবার বিশাল আকৃতির কোরবানির পশুর সংখ্যা খুবই কম। খামারিদের নিরাপদ ও লাভজনক পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

লোকসানের ভয়ে ফুলবাড়ীতে কমেছে বড় গরু পালন, হাটের বেশির ভাগ গরুই ছোট ও মাঝারি

আপডেট সময় ০২:০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমতে শুরু করেছে। তবে এবার আগের মতো বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। খামারিরা বলছেন, বড় গরু পালনে অতিরিক্ত খরচ হয়। তবে সেই তুলনায় কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় এখন ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

উপজেলার রুদ্রানী খামারি আল মামুনুর রশিদ ছয় বছর ধরে বিদেশি জাতের একটি বড় ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে গরুটির ওজন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কেজি। সে সময় বিভিন্ন পাইকার তার বাড়িতে গিয়ে গরুটির দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু আরও বেশি দামের আশায় তিনি গরুটি বিক্রি করেননি। শেষ পর্যন্ত ওই ঈদে গরুটি আর বিক্রি হয়নি। পরে আরও এক বছর গরুটি লালন-পালন করে গত বছর পশুর হাটে সেটি চার লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। অতিরিক্ত ওই এক বছরে গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানে পড়েন তিনি। এজন্য বড় গরু পালনের সাহস পাচ্ছেন না এখন।

অপর খামারি আব্দুল হানিফ বলেন, ‘বড় গরু পালতে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না।’

      শুধু আল মামুনুর রশিদ ও আব্দুল হানিফ নন, উপজেলার অনেক খামারি ও গৃহস্থের অভিজ্ঞতাও একই। খড়, ভুসি, খইল ও কাঁচা ঘাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতা এখন তুলনাম‚লক কম দামের ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে ঝুঁকছেন।

খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে বড় ষাঁড় গরু পালন করেছি। কিন্তু গ্রাহক কম ছিল, আবার কাঙ্খিত দামও মেলেনি। এ কারণে এবার খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুই বেশি লালন-পালন করেছি।’

ফুলবাড়ী উপজেলার আটপুকুরে মঙ্গলবার (১৯ মে) কোরবানির পশুর হাট বসেছিল। সকাল থেকেই পশু কেনাবেচা হয়েছে। হাটটির ইজারাদারের প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে হাটে অনেক বড় বড় গরু আসত। মানুষ শুধু দেখার জন্যও ভিড় করত। এখন খামারিরা বড় গরু আনতে ভয় পান। কারণ, বড় গরুর দাম ওঠে না। এবারও ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফুলবাড়ী পশুর হাট এবং গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী পশু হাটে গিয়েও একই চিত্র পাওয়া যায। সেখানেও বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যাই বেশি দেখা যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আছে। উপজেলায় ২৭ হাজার ৫০৩টি কোরবানীর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে উপজেলায় চাহিদা ২১ হাজার ৩৬৭ টি। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে ৬ হাজার ১৩৬টি পশু। ফলে অন্য জেলা ও উপজেলায় পশু সরবরাহের সম্ভাবনা আছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সারোয়ার হাসান বলেন, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খামারিরা এখন বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি পালন করছেন। বড় গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি। এবার বিশাল আকৃতির কোরবানির পশুর সংখ্যা খুবই কম। খামারিদের নিরাপদ ও লাভজনক পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।