সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

পার্বতীপুরে বাড়ছে সুস্বাদু ও রসালো তালশাঁসের চাহিদা

তীব্র দাবদাহে পার্বতীপুরে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল তালশাঁসের চাহিদা। দেশজুড়ে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা রকম সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল। ইতোমধ্যে পার্বতীপুরের বাজারগুলোতে আম ও লিচুর সমারোহ দেখা গেলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে বাড়তি কদর পেয়েছে তালশাঁস।
প্রচণ্ড তাপদাহে শরীর ঠান্ডা রাখা ও তৃষ্ণা মেটাতে পার্বতীপুরের মানুষ এখন ঝুঁকছেন তালশাঁসের দিকে। শহরের রেলওয়ে পার্ক বাজার, পৌর এলাকা ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই মৌসুমি ফল। শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা গরম থেকে স্বস্তি পেতে কিনছেন তালশাঁস। জানা গেছে, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এসব তাল। পরে সেগুলো পার্বতীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এনে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। চলমান তাপদাহে তালশাঁসের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের রেলওয়ে পার্ক বাজার এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করছেন লিমন নামে এক বিক্রেতা। তিনি জানান, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকায় পুরো তাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, “গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই এটি খেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করি। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেড়েছে। লিমনের মতো আরও অনেক বিক্রেতাকে ঢাকা মোড়, বাস টার্মিনাল, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, কেউবা রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই ফল বিক্রি করছেন।
বাবুপাড়া এলাকায় কাজের ফাঁকে তালশাঁস খেতে দেখা যায় রবিউল ইসলামকে। তিনি বলেন, “সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
অন্যদিকে বাজারে কেনাকাটা করতে এসে তালশাঁস খাচ্ছিলেন ট্রেনযাত্রী মানিক। তিনি বলেন, “এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই গরমে সুযোগ পেলেই খাই।”
চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে তীব্র গরমে মানুষের কাছে তালশাঁস এখন অন্যতম জনপ্রিয় ফল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, চলমান দাবদাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পার্বতীপুরে তালশাঁসের চাহিদা আরও বাড়বে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

পার্বতীপুরে বাড়ছে সুস্বাদু ও রসালো তালশাঁসের চাহিদা

আপডেট সময় ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

তীব্র দাবদাহে পার্বতীপুরে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল তালশাঁসের চাহিদা। দেশজুড়ে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা রকম সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল। ইতোমধ্যে পার্বতীপুরের বাজারগুলোতে আম ও লিচুর সমারোহ দেখা গেলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে বাড়তি কদর পেয়েছে তালশাঁস।
প্রচণ্ড তাপদাহে শরীর ঠান্ডা রাখা ও তৃষ্ণা মেটাতে পার্বতীপুরের মানুষ এখন ঝুঁকছেন তালশাঁসের দিকে। শহরের রেলওয়ে পার্ক বাজার, পৌর এলাকা ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই মৌসুমি ফল। শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা গরম থেকে স্বস্তি পেতে কিনছেন তালশাঁস। জানা গেছে, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এসব তাল। পরে সেগুলো পার্বতীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এনে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। চলমান তাপদাহে তালশাঁসের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের রেলওয়ে পার্ক বাজার এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করছেন লিমন নামে এক বিক্রেতা। তিনি জানান, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকায় পুরো তাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, “গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই এটি খেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করি। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেড়েছে। লিমনের মতো আরও অনেক বিক্রেতাকে ঢাকা মোড়, বাস টার্মিনাল, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, কেউবা রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই ফল বিক্রি করছেন।
বাবুপাড়া এলাকায় কাজের ফাঁকে তালশাঁস খেতে দেখা যায় রবিউল ইসলামকে। তিনি বলেন, “সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
অন্যদিকে বাজারে কেনাকাটা করতে এসে তালশাঁস খাচ্ছিলেন ট্রেনযাত্রী মানিক। তিনি বলেন, “এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই গরমে সুযোগ পেলেই খাই।”
চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে তীব্র গরমে মানুষের কাছে তালশাঁস এখন অন্যতম জনপ্রিয় ফল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, চলমান দাবদাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পার্বতীপুরে তালশাঁসের চাহিদা আরও বাড়বে।