বান্দরবানের লামা বনবিভাগের আওতাধীন মাতামুহুরী রিজার্ভের সামাজিক বনায়ন এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সংরক্ষিত রিজার্ভ বনবিভাগের আওতাধীন আলীকদমের ১ লক্ষ ২ হাজার একর জায়গা মাতামুহুরী রেঞ্জের রিজার্ভ আগলে রাখা বনজ সম্পদ সরকারি সামাজিক বনায়ন যেন চোখের সামনেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে,যা কেবল পরিবেশের জন্য বিপর্যয় নয়,হুমকির মুখে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
সংরক্ষিত রিজার্ভ এলাকায় যখন বনখেকো ও বন বিভাগের আওতায়ধীন মাতামুহুরী রেঞ্জের অসাধু বিট কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাসের সাথে বন্ধুতের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, তখনি সরকারি বনজ সম্পদ ও সামাজিক বনায়নগুলো রক্ষা করা কঠিন হয় পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন স্থানীয়রা জানান, মাতামুহুরী রেঞ্জে দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তার সাথে মুরুংঝিরির বনখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের সাথে রয়েছে গভীর সুসম্পর্ক।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রিজার্ভ এলাকায় অবৈধ ঘরবাড়ি ওঠানো সহ সামাজিক বনায়ন রক্ষা করতে দীর্ঘদিন যাবত দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক।পরবর্তীতে দীর্ঘদিন যাবত বনবিভাগের দায়িত্ব পাওয়ায় রিজার্ভের আশেপাশে থাকা পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মুরুং সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে বেশ সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এই রফিকের সঙ্গে। ঠিক তখনি আরো গভীর ভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন একাধিক রিজার্ভ খেকো ও বনখেকোদের সাথে,সেই সুবাদে রফিকুল ইসলাম রফিকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সংরক্ষিত রিজার্ভে তার এক নিজস্ব বাহিনী।
রক্ষক যখন বকক্ষ হয়..! ঠিক তখনই রিজার্ভ এলাকা জবর-দখল থেকে শুরু হয় সামাজিক বনায়ন কাঠ পাচারের কার্যক্রম। মুরুংঝিরির বেশ কিছু পাহাড়িরা বলেন এই রফিকুল ইসলাম রফিক আমাদের কে সংরক্ষিত রিজার্ভ এলাকায় জুম চাষ করতে দিবে বলে আমাদের অনেক সহজ সরল পাহাড়ি মুরুংদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে আমাদের মুরুংরা জুম চাষ করতে না পাড়লে আমরা সবাই মিলে তাকে জিজ্ঞেস করি তুমি বাঙালি ছেলে হয়ে সরকার জায়গা ২০/৩০ একর জবর-দখল রাখতে পারে,আমরা পাহাড়িরা কেন জুম চাষ করতে পারবে না তাহলে তুমি আমাদের সকলের টাকা ফেরত দাও,ঠিক এইভাবে মুরুংয়ের বিষয়টি ও রিজার্ভ জায়গা জবর দখলের বিষয়টি এলাকায় সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক সহ পত্রপত্রিকায় জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের পক্ষ থেকে রফিক চাকুরিচুক্ত করে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়,এখন আবারো মাতামুহুরী রিজার্ভের বিট কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাস ও রফিকুল ইসলাম রফিক যোগসাজশে রিজার্ভ খেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের নজরে পড়ে এখনো মাতামুহুরী রেঞ্জের রিজার্ভের এই সামাজিক বনায়নের বনগুলো এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে এবং বনখেকোদের সুকৌশলে পাচার করা হচ্ছে বনজ সম্পদ সরকারি সামাজিক বনায়নের কাঠ।বন-বিভাগের তপন চন্দ্র দাসের মতো গুটি কয়েক অসাধু বিট কর্মকর্তা রিজার্ভ খেকো ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার ও রাজস্ব। বন-বিভাগের মাতামুহুরী রিজার্ভ এলাকাগুলোতে সরকারের উন্নয়ন নাকি বনজসম্পদ ধ্বংসের মহোৎসব??
মাতামুহুরী রিজার্ভে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বড় বড় গাছ গুলো কেটে সাবাড় করা সহ সরকারি সামাজিক বনায়নের বন উজাড়,জবর-দখল করা প্রাকৃতিক সম্পদ চোখের সামনে শেষ হয়ে গেলেও বন-বিভাগের আওতায়ধীন মাতামুহুরী রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাসের ব্যর্থতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি মাতামুহুরী রেঞ্জের রিজার্ভের বন-কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাস একজন নীরব ঘাতক : ফলশ্রুতিতে, বন-বিভাগের আওতাধীন এই মাতামুহুরী রেঞ্জের রিজার্ভের বনজ সম্পদ ও সরকারি সামাজিক বনায়ন রক্ষা আজ ধ্বংসের মুখে ঢলে পড়েছে।
মাতামুহুরী রেঞ্জের রিজার্ভ থেকে এইভাবে দিন-রাত গাছ কেটে পাচার ও সামাজিক বনায়নের বাগান পুড়িয়ে অবৈধ ভাবে রিজার্ভ জায়গা জবর-দখলের চেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠন ও সচেতন মহল।
পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে মাতামুহুরী রিজার্ভ ধ্বংসের মূলহোতা মাতামুহুরী বনক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাস ও রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী পরিবেশও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে,বন-বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট মাতামুহুরী রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দাসের নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও ওনার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























