শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছে জাজিরা থানা পুলিশ। তবে অভিযানের পর নিরীহ পথচারী ও সাধারণ মানুষকে আটক করে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শনিবার (২৩ মে) গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, জাজিরা কলেজ এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মহাসড়কে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকা থেকে কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কেউ মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ আত্মীয়ের বাসা থেকে ফিরছিলেন, আবার কেউ কর্মস্থল শেষে বাড়ির পথে ছিলেন। প্রকৃত অভিযুক্তদের ধরতে না পেরে সাধারণ মানুষকেই আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানায়, প্রথমে ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আটক ৮ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আতাহার সরদার (২৬), তুলন মাদবর (১৯), নাহিদ হাসান সরদার (২২), শাকিল শিকারী (২০), জয় শেখ (২৬), লিয়াকত খান (২১), রিফাত মোল্লা (২০) ও সাব্বির সরদার (২৪)।
গ্রেফতার হওয়া শাকিল শিকারীর বাবা বিল্লাল শিকারী অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে রুপবাবুরহাটে একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করেন। শুক্রবার মোটরসাইকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ফেরার পথে পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না।
অন্যদিকে আতাহার সরদারের বোন ফারজানা বলেন, আতাহার, সাব্বির ও নাহিদ মোটরসাইকেলে করে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। পথে জাজিরা বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
নাহিদ হাসানের বাবা আমির হোসেন সরদার বলেন, তার ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে দিনমজুরি খায়। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। নিরপরাধ ছেলেদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আটক হওয়া অন্যদের পরিবারও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ যুবকদের গুরুতর মামলার আসামি করা হয়েছে। এতে পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সালেহ আহাম্মদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ও সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি শাকিল হোসেন 



















