সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

থানচিতে বিজিবির অভিযানে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

বান্দরবানের থানচিতে দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেন (৫০) কে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসাথে অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকাসহ অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৩ টায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ান (৩৮ বিজিবি) সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জানা যায়, গতকাল ২১ মে থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সশস্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভিকটিমের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বে সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ান (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস অভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।

ভিকটিমের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণকারীদের শনাক্ত ও আটক, মুক্তিপণের অর্থ উদ্ধার এবং কোনো ধরনের পার্শ্বক্ষতি ছাড়াই পুরো অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা-এই সকল বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনি পাড়া এলাকায় গভীর রাতে অত্যন্ত কৌশলগত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।একইসাথে অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ ৩লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটককৃত ব্যাক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও অনেকেই আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। পাশিপাশি, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত আছে। সমগ্র এলাকা সকল সংস্থার দিকে নজরদারিতে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বান্দরবানের থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা। এখানে কোন প্রকার সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়া বা কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবেনা। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের আন্তরিক সাহায্য নিয়ে বিজিবি সর্বদা দেশ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

থানচিতে বিজিবির অভিযানে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বান্দরবানের থানচিতে দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেন (৫০) কে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসাথে অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকাসহ অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৩ টায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ান (৩৮ বিজিবি) সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জানা যায়, গতকাল ২১ মে থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সশস্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভিকটিমের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বে সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ান (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস অভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।

ভিকটিমের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণকারীদের শনাক্ত ও আটক, মুক্তিপণের অর্থ উদ্ধার এবং কোনো ধরনের পার্শ্বক্ষতি ছাড়াই পুরো অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা-এই সকল বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনি পাড়া এলাকায় গভীর রাতে অত্যন্ত কৌশলগত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।একইসাথে অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ ৩লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটককৃত ব্যাক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও অনেকেই আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। পাশিপাশি, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত আছে। সমগ্র এলাকা সকল সংস্থার দিকে নজরদারিতে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বান্দরবানের থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা। এখানে কোন প্রকার সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়া বা কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবেনা। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের আন্তরিক সাহায্য নিয়ে বিজিবি সর্বদা দেশ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়।