ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক! পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগের মুখে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এডি ইমরানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হুমকির অভিযোগ

ইরান হামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে তীব্র উত্তেজনা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়, যা দুই দেশের ভিন্ন যুদ্ধকৌশলকে স্পষ্ট করে তুলেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি তাদের প্রথম কথোপকথন ছিল না। এর আগে গত রোববারও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই সময় ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য ওই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।

তবে আলোচনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ট্রাম্প মঙ্গলবার পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তারা একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, হয় একটি সমঝোতা হবে, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি যেন সেদিকে না গড়ায়, সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুদ্ধ স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রগুলোর দাবি, নেতানিয়াহুর মতে হামলা বিলম্বিত করা মানে ইরানকে বাড়তি সময় দেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত তেহরানের পক্ষেই যাবে।

মঙ্গলবার এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সরাসরি জানান, হামলা স্থগিত করা বড় ভুল এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো উচিত।

এই ফোনালাপের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরান আলোচনার আড়ালে সময়ক্ষেপণ করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের হুমকি দিয়ে শেষ মুহূর্তে সরে আসার কৌশল নিয়ে নেতানিয়াহুর অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যুদ্ধকালীন লক্ষ্য ও কৌশলগত অবস্থানের পার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।

অবশ্য নেতানিয়াহুর চাপকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না ট্রাম্প। ফোনালাপ প্রসঙ্গে বুধবার তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সেটাই করবেন, যা আমি করতে বলব।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ এড়াতে ও প্রাণহানি কমাতে তিনি কূটনীতিকে আরও কিছু সময় দিতে চান। অন্যদিকে, ইরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে এখনো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে দুই পক্ষের মূল মতপার্থক্য কতটা কমেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, ইরান এখনো তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসেনি। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা 

ইরান হামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে তীব্র উত্তেজনা

আপডেট সময় ১২:১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়, যা দুই দেশের ভিন্ন যুদ্ধকৌশলকে স্পষ্ট করে তুলেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি তাদের প্রথম কথোপকথন ছিল না। এর আগে গত রোববারও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই সময় ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য ওই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।

তবে আলোচনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ট্রাম্প মঙ্গলবার পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তারা একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, হয় একটি সমঝোতা হবে, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি যেন সেদিকে না গড়ায়, সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুদ্ধ স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রগুলোর দাবি, নেতানিয়াহুর মতে হামলা বিলম্বিত করা মানে ইরানকে বাড়তি সময় দেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত তেহরানের পক্ষেই যাবে।

মঙ্গলবার এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সরাসরি জানান, হামলা স্থগিত করা বড় ভুল এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো উচিত।

এই ফোনালাপের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরান আলোচনার আড়ালে সময়ক্ষেপণ করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের হুমকি দিয়ে শেষ মুহূর্তে সরে আসার কৌশল নিয়ে নেতানিয়াহুর অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যুদ্ধকালীন লক্ষ্য ও কৌশলগত অবস্থানের পার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।

অবশ্য নেতানিয়াহুর চাপকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না ট্রাম্প। ফোনালাপ প্রসঙ্গে বুধবার তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সেটাই করবেন, যা আমি করতে বলব।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ এড়াতে ও প্রাণহানি কমাতে তিনি কূটনীতিকে আরও কিছু সময় দিতে চান। অন্যদিকে, ইরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে এখনো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে দুই পক্ষের মূল মতপার্থক্য কতটা কমেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, ইরান এখনো তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসেনি। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।