ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজর কাড়লেন মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী কনসার্টে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনায় মুখ খুললেন হাসান রামপালে সংসার খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক নারী ছাত্রদলের রাজনীতিতে বৃহৎ পরিসরে ভূমিকা রাখতে চান জিসান ভালোবাসি গাইবান্ধা’ সংগঠনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্টের নীলফামারী জেলা কমিটি গঠন পদ্মা রেলে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, কার পকেটে গেল এত টাকা?

রাজউকের ১৫০ কোটি টাকার জমিতে ‘নিকেতন লেডিস পার্ক’ কার স্বার্থে

জনস্বার্থে ‘পাবলিক পার্ক’ নির্মাণের আড়ালে সুকৌশলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি একটি হাউজিং সোসাইটির হাতে তুলে দেওয়ার আয়োজন চলছে। রাজধানীর অভিজাত গুলশান-নিকেতন এলাকায় হাতিরঝিল ম্যানেজমেন্ট ভবনের পাশে প্রায় ২৭ কাঠার প্লটটিতে ‘নিকেতন লেডিস পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। কিন্তু সেই পার্ক শেষ পর্যন্ত নিকেতন হাউজিং সোসাইটির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, পার্ক নির্মাণে নীতিগত অনুমোদনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
২০২৬ সালে জতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রাজউকে জরুরি সভা ডেকে সেখানে উপস্থিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বোর্ড সদস্যদের চাপে ফেলে কাজটি তিনি আদায় করে নিলেও চূড়ান্ত রেজুলেশনে এখনো স্বাক্ষর করেননি কেউ কেউ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কের নিকেতন হাউজিং সোসাইটির ফটকের ঠিক পাশেই রাজউকের মালিকানাধীন বিশাল এই প্লট। এর দক্ষিণ পাশে হাতিরঝিল প্রকল্প এবং উত্তর পাশে রয়েছে গুলশান-বনানী লেক। কয়েক মিটার দূরেই শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী পার্ক। বর্তমানে প্লটটির সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে রাজউক। ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজউকের সাইনবোর্ড।

 


প্লটের সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে রাজউক। ছবি

ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, হাতিরঝিল প্রকল্পের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে জায়গাটিতে। এই প্লটের সামনেই চায়ের দোকান চালান ওহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে এই জায়গা ওমর গণি চৌধুরী ওরফে লাল বাহিনীর দখলে ছিল। প্রায় দুই বছর আগে সরকারি লোকজন এসে জায়গাটি খালি করে দেয়। এখন শুনতেছি এখানে নিকেতনের জন্য পার্ক বানানো হবে।

নিকেতনের ফটকসংলগ্ন ফুটপাতে ছোট একটি দোকান বসিয়ে গত আট বছর ধরে ব্যবসা করছেন নিলুফা বেগম। তিনি বলেন, এই জায়গা নিয়ে অনেক ঝামেলা হইছে। নিকেতন সোসাইটির লোকজন বলে এটা তাদের, আবার রাজউকও দাবি করে তাদের।
রাজউকের বোর্ড সভার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম বোর্ড সভায় ‘রাজউক নিকেতন লেক ভিউ পার্ক’ নির্মাণের প্রশাসনিক নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রস্তাব তোলা হয়। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভুঁইয়া, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক, সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় জমিটি পুনরায় দখলের শঙ্কা রয়েছে। তাই সেখানে একটি পাবলিক পার্ক নির্মাণ করা হবে; যেখানে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের বিনোদন এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে।

 

প্লটের সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সাঁটানো নোটিশ। ছবি

দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, পার্ক নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বোর্ড সভায় সশরীরে উপস্থিত থেকে নীতিগত অনুমোদন দিতে বাধ্য করেন সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিকেতন সোসাইটিকে সুবিধা দিতেই তিনি এই প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, জমিটি অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে উদ্ধার করতে রাজউককে প্রভাবশালীদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে এবং মামলা মোকদ্দমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই আর প্রচুর অর্থ খরচ করে পাওয়া কমবেশি ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের জমি এখন হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। লেডিস পার্ক নির্মাণের নামে কৌশলে এই জমি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এমন অভিযোগ ওঠার পেছনে দুটি কারণ মুখ্য ভূমিকা রাখছে। প্রথমত, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্বা না করে রাজউকের জরুরি সভায় উপস্থিত থেকে পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে রিজওয়ানা হাসানের চাপ দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, প্লটটির কয়েক মিটারের মধ্যে একটি পার্ক থাকার পরও এমন উদ্যোগ নেওয়া।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি শুনে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে বলেন। পরে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।
নথিতে উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রমাণ থাকার পরও এই বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখার সাবেক সদস্য শেখ মতিয়ার রহমান (বর্তমানে সদস্য অর্থ ও প্রশাসন)। সম্প্রতি এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি।

নথিতে উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রমাণ থাকার পরও এই বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখার সাবেক সদস্য শেখ মতিয়ার রহমান (বর্তমানে সদস্য অর্থ ও প্রশাসন)। তবে পরে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি।
এদিকে রাজউকের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান (এস্টেট ও ভূমি-১) বলেন, পার্কটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলেও এর মালিকানা রাজউকের কাছেই থাকবে। নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য তিনি জানান, পার্ক পরিচালনা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। তবে এখানে নারীদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজর কাড়লেন মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন

রাজউকের ১৫০ কোটি টাকার জমিতে ‘নিকেতন লেডিস পার্ক’ কার স্বার্থে

আপডেট সময় ১২:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

জনস্বার্থে ‘পাবলিক পার্ক’ নির্মাণের আড়ালে সুকৌশলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি একটি হাউজিং সোসাইটির হাতে তুলে দেওয়ার আয়োজন চলছে। রাজধানীর অভিজাত গুলশান-নিকেতন এলাকায় হাতিরঝিল ম্যানেজমেন্ট ভবনের পাশে প্রায় ২৭ কাঠার প্লটটিতে ‘নিকেতন লেডিস পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। কিন্তু সেই পার্ক শেষ পর্যন্ত নিকেতন হাউজিং সোসাইটির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, পার্ক নির্মাণে নীতিগত অনুমোদনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
২০২৬ সালে জতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রাজউকে জরুরি সভা ডেকে সেখানে উপস্থিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বোর্ড সদস্যদের চাপে ফেলে কাজটি তিনি আদায় করে নিলেও চূড়ান্ত রেজুলেশনে এখনো স্বাক্ষর করেননি কেউ কেউ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কের নিকেতন হাউজিং সোসাইটির ফটকের ঠিক পাশেই রাজউকের মালিকানাধীন বিশাল এই প্লট। এর দক্ষিণ পাশে হাতিরঝিল প্রকল্প এবং উত্তর পাশে রয়েছে গুলশান-বনানী লেক। কয়েক মিটার দূরেই শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী পার্ক। বর্তমানে প্লটটির সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে রাজউক। ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজউকের সাইনবোর্ড।

 


প্লটের সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে রাজউক। ছবি

ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, হাতিরঝিল প্রকল্পের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে জায়গাটিতে। এই প্লটের সামনেই চায়ের দোকান চালান ওহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে এই জায়গা ওমর গণি চৌধুরী ওরফে লাল বাহিনীর দখলে ছিল। প্রায় দুই বছর আগে সরকারি লোকজন এসে জায়গাটি খালি করে দেয়। এখন শুনতেছি এখানে নিকেতনের জন্য পার্ক বানানো হবে।

নিকেতনের ফটকসংলগ্ন ফুটপাতে ছোট একটি দোকান বসিয়ে গত আট বছর ধরে ব্যবসা করছেন নিলুফা বেগম। তিনি বলেন, এই জায়গা নিয়ে অনেক ঝামেলা হইছে। নিকেতন সোসাইটির লোকজন বলে এটা তাদের, আবার রাজউকও দাবি করে তাদের।
রাজউকের বোর্ড সভার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম বোর্ড সভায় ‘রাজউক নিকেতন লেক ভিউ পার্ক’ নির্মাণের প্রশাসনিক নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রস্তাব তোলা হয়। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভুঁইয়া, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক, সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় জমিটি পুনরায় দখলের শঙ্কা রয়েছে। তাই সেখানে একটি পাবলিক পার্ক নির্মাণ করা হবে; যেখানে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের বিনোদন এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে।

 

প্লটের সড়কসংলগ্ন অংশজুড়ে উঁচু টিনের বেড়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সাঁটানো নোটিশ। ছবি

দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, পার্ক নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বোর্ড সভায় সশরীরে উপস্থিত থেকে নীতিগত অনুমোদন দিতে বাধ্য করেন সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিকেতন সোসাইটিকে সুবিধা দিতেই তিনি এই প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, জমিটি অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে উদ্ধার করতে রাজউককে প্রভাবশালীদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে এবং মামলা মোকদ্দমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই আর প্রচুর অর্থ খরচ করে পাওয়া কমবেশি ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের জমি এখন হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। লেডিস পার্ক নির্মাণের নামে কৌশলে এই জমি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এমন অভিযোগ ওঠার পেছনে দুটি কারণ মুখ্য ভূমিকা রাখছে। প্রথমত, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্বা না করে রাজউকের জরুরি সভায় উপস্থিত থেকে পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে রিজওয়ানা হাসানের চাপ দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, প্লটটির কয়েক মিটারের মধ্যে একটি পার্ক থাকার পরও এমন উদ্যোগ নেওয়া।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি শুনে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে বলেন। পরে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।
নথিতে উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রমাণ থাকার পরও এই বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখার সাবেক সদস্য শেখ মতিয়ার রহমান (বর্তমানে সদস্য অর্থ ও প্রশাসন)। সম্প্রতি এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি।

নথিতে উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রমাণ থাকার পরও এই বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখার সাবেক সদস্য শেখ মতিয়ার রহমান (বর্তমানে সদস্য অর্থ ও প্রশাসন)। তবে পরে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি।
এদিকে রাজউকের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান (এস্টেট ও ভূমি-১) বলেন, পার্কটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলেও এর মালিকানা রাজউকের কাছেই থাকবে। নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর অবশ্য তিনি জানান, পার্ক পরিচালনা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। তবে এখানে নারীদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।