সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

অবৈধ ও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন নড়িয়ার পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশংকা লক্ষাধিক মানুষের ভিটাবাড়ী

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে টেন্ডারের শর্ত ভঙ্গ করে চলছে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রতিদিন ৫০-৬০টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে লাখ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। এতে করে নড়িয়ার মানচিত্রে বিলীন হওয়ার আশংকা লক্ষাধিক মানুষের ভিটাবাড়ি।

স্থানীয় আব্দুল আউয়াল চৌকদার সহ একাধিক লোকের অভিযোগ, এই অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝিসহ একটি মহল।
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে। বিএনপির সরকার আসার পর থেকেই পূনরায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নড়িয়া পৌরসভা ও নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা,নওয়াপাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচি কাটা, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর,মুন্সিগঞ্জজেলার হাসাইল, দিঘির পাড়, ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ফের ভিটাবাড়ি হারানোর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। পরে ২০১৯-২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও ১২ কিলোমিটার নদী খননে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, গত বছরের জুনে চরআত্রা এলাকায় স্তুপকৃত বালু অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজ পান ‘তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। সে বালু অপসারন না করে বালু স্তুপের পাশ থেকেই অবৈধভাবে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে র্জোরপূবক ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝির বিরুদ্ধে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী চরআত্রা ও নওয়াপাড়া এলাকার চরের ফসলি জমিতে পূর্বে ড্রেজিংয়ের সময় উঠিয়ে স্তুপ করে রাখা বালু সরানোর। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে তারা স্তুপের পরিবর্তে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন।

বালু তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রনি মিয়া, বকুল দেওয়ান ও স্থানীয়রা বলছেন, মুলফৎগঞ্জ, চরজুজিরা, শুরেশর, কেদারপুর ও চরআত্রার এলাকায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি কাটিং ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত একটানা চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। প্রতিটি ড্রেজার দিনে ২-৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে, যা পরে বাল্কহেডে করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে সরবরাহ করা হয়। শ্রমিকরা স্বীকার করেছেন, তারা ইজারাদারের নির্দেশেই কাজ করেন, তবে কাগজপত্র তাদের হাতে নেই।

বাশতলা এলাকার সাইদুর রহমান, দনু মাল বলেন, তিনবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। এখন বাঁধের পাশে ঘর তুলেছি। আবার ভাঙন শুরু হলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
সুরেশ্বরের আয়না বিবি বলেন, বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি নদী থেকে জোর করে বালু উঠিয়ে বিক্রি করছে যার ফলে এ সর্বনাশা পদ্মার নদীর ভাংগনের আথংকে আছি। এ ‘নদী আমাদের ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিয়েছে। বাঁধটাই এখন শেষ আশ্রয়। এটা ভাঙলে কোথায় যাব? তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই।

নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডেও বাসিন্দা কাশেম সিদ্দিক বলেন, নড়িয়া উপজেলা বি এনপির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদ্মা তলদেশ থেকে বাুল উত্তোলন করে বিক্রি করছে। যাতে করে ও আমরা আবার পড়বো ভাংগনের কবলে।
জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু অভিযান হলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অস্বীকার করে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও ‘তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন এর সত্বাধিকারি ফরিদ আহাম্মেদ রযেল মাঝি বলেন, আমরা যথা স্থান থেকেই বালু উত্তোলন করছি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম খান স্বীকার করেছেন, ‘প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। বালু স্তুপ সড়ানোর টেন্টারের মেয়াদ আছে ২০২৬ সালের ৩১ আগষ্ট পর্য়ন্ত। তবে তারা নির্দিস্ট স্থান থেকে বালু না সরিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসন কে জানাবো।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম কে নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

অবৈধ ও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন নড়িয়ার পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশংকা লক্ষাধিক মানুষের ভিটাবাড়ী

আপডেট সময় ০২:০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে টেন্ডারের শর্ত ভঙ্গ করে চলছে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রতিদিন ৫০-৬০টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে লাখ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। এতে করে নড়িয়ার মানচিত্রে বিলীন হওয়ার আশংকা লক্ষাধিক মানুষের ভিটাবাড়ি।

স্থানীয় আব্দুল আউয়াল চৌকদার সহ একাধিক লোকের অভিযোগ, এই অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝিসহ একটি মহল।
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে। বিএনপির সরকার আসার পর থেকেই পূনরায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নড়িয়া পৌরসভা ও নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা,নওয়াপাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচি কাটা, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর,মুন্সিগঞ্জজেলার হাসাইল, দিঘির পাড়, ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ফের ভিটাবাড়ি হারানোর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। পরে ২০১৯-২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও ১২ কিলোমিটার নদী খননে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, গত বছরের জুনে চরআত্রা এলাকায় স্তুপকৃত বালু অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজ পান ‘তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। সে বালু অপসারন না করে বালু স্তুপের পাশ থেকেই অবৈধভাবে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে র্জোরপূবক ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝির বিরুদ্ধে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী চরআত্রা ও নওয়াপাড়া এলাকার চরের ফসলি জমিতে পূর্বে ড্রেজিংয়ের সময় উঠিয়ে স্তুপ করে রাখা বালু সরানোর। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে তারা স্তুপের পরিবর্তে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন।

বালু তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রনি মিয়া, বকুল দেওয়ান ও স্থানীয়রা বলছেন, মুলফৎগঞ্জ, চরজুজিরা, শুরেশর, কেদারপুর ও চরআত্রার এলাকায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি কাটিং ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত একটানা চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। প্রতিটি ড্রেজার দিনে ২-৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে, যা পরে বাল্কহেডে করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে সরবরাহ করা হয়। শ্রমিকরা স্বীকার করেছেন, তারা ইজারাদারের নির্দেশেই কাজ করেন, তবে কাগজপত্র তাদের হাতে নেই।

বাশতলা এলাকার সাইদুর রহমান, দনু মাল বলেন, তিনবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। এখন বাঁধের পাশে ঘর তুলেছি। আবার ভাঙন শুরু হলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
সুরেশ্বরের আয়না বিবি বলেন, বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি নদী থেকে জোর করে বালু উঠিয়ে বিক্রি করছে যার ফলে এ সর্বনাশা পদ্মার নদীর ভাংগনের আথংকে আছি। এ ‘নদী আমাদের ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিয়েছে। বাঁধটাই এখন শেষ আশ্রয়। এটা ভাঙলে কোথায় যাব? তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই।

নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডেও বাসিন্দা কাশেম সিদ্দিক বলেন, নড়িয়া উপজেলা বি এনপির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদ্মা তলদেশ থেকে বাুল উত্তোলন করে বিক্রি করছে। যাতে করে ও আমরা আবার পড়বো ভাংগনের কবলে।
জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু অভিযান হলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অস্বীকার করে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও ‘তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন এর সত্বাধিকারি ফরিদ আহাম্মেদ রযেল মাঝি বলেন, আমরা যথা স্থান থেকেই বালু উত্তোলন করছি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম খান স্বীকার করেছেন, ‘প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। বালু স্তুপ সড়ানোর টেন্টারের মেয়াদ আছে ২০২৬ সালের ৩১ আগষ্ট পর্য়ন্ত। তবে তারা নির্দিস্ট স্থান থেকে বালু না সরিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসন কে জানাবো।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম কে নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।