সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। র্যাব-৯, সিলেটের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামীকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে দিলারা বেগম (৫৪), স্বামী মৃত মাহমুদ হোসেন, সাং-নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর), থানা-গোয়াইনঘাট, জেলা-সিলেট, হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা নং-১২, তারিখ-১৭/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হকের উপর অর্পণ করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী হারুন রশিদ (৩৫), পিতা-তাজ উদ্দিন, মাতা-রহিরয়ুন নেছা, সাং-নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর), থানা-গোয়াইনঘাট, জেলা-সিলেটকে গ্রেফতার করে। তাকে গোয়াইনঘাট থানাধীন ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের মাটিকাপা এলাকায় তার ফুফুর বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী জানান, ওমানে অবস্থানকালে ভিকটিমের ছেলে আম্বিয়া আহমদের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার রাতে এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সেই সুযোগে পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা বাদীর ঘরে প্রবেশ করে এবং বাদীর মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় দিলারা বেগম বাধা দিলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে মারা যান।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার এবং ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শামীম আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট 



















