পর্যটন শহর কক্সবাজারের বহুল পরিচিত আল-গণি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ পর্যটক অসুস্থ অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিষয়টি আলোচনায় আসার পর শনিবার (১৬ মে) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির সুগন্ধা পয়েন্টস্থ শাখাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আল-গণিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রপার হাইজিং মেইনটেইন না করার প্রমাণ মেলায় এবং খাবার তৈরির স্থান অপরিচ্ছন্ন থাকায় রেস্টুরেন্টটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে আল-গণির সুগন্ধা পয়েন্ট শাখায় রাতের খাবার গ্রহণ করেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে আসা ৩০ জন পর্যটক। খাবারের মেন্যুতে ছিল বারবিকিউ। খাবার শেষে সবাই একে একে অসুস্থতাবোধ করলে হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার তানবী জান্নাত জানান, রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে একে একে আক্রান্ত পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন, সব মিলিয়ে একটি গ্রুপের ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ফুড পয়েজনিংয়ের কারণে এমনটা হয়েছে।
কয়েকঘণ্টার পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে শনিবার দুপুরের দিকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পর্যটকদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন, মশিউর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, কামরুজ্জামান, আবু বকর, আব্দুল মঈন, গীতা বালা ধর ও আয়ান।
রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন জানান, আমাদের কলেজ থেকে ১৩০ জনের একটি দল শিক্ষা সফরে কক্সবাজারে আসি। রাতে আল-গণিতে আমরা ৩০ জন বারবিকিউ খাই। কিছু সময় পর থেকেই সবাই কম-বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।
পর্যটন শহর কক্সবাজারের রেস্তোঁরাগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পর্যটক মশিউর রহমান।
কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আল-গণি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের বারবিকিউ নয়; বরং সৈকত এলাকায় অন্য খাবার খেয়ে পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন।
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার 



















