ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

পাশাপাশি কবরে সমাহিত একই পরিবারের ৫ সদস্য

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে পাড়ি জমান পটুয়াখালীর মীর কালাম। ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করে স্বপ্ন বুনেছিলেন পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার। কিন্তু কে জানত এক নির্মম মৃত্যু একইসঙ্গে ঝড়াবে পরিবারের সবার প্রাণ!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পটুয়াখালীর বাউফলের মীর কালামের পরিবারের পাঁচ সদস্য। নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর নেমে আসে শোকের ছায়া।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কনকদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে, স্থানীয় উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

জানা যায়, গত রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী কালাম সবজির আড়তে যাওয়ার পূর্বে খাবারের তরকারি গরম করতে যান স্ত্রী সালমা বেগম। হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাদের একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সবাই।

শেষ পর্যায়ে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গৃহবধূ সালমা (৩২)। এর আগে মঙ্গলবার পরিবারের প্রধান মীর কালাম (৩৫) মারা গেলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়। বৃহস্পতিবার তার ছেলে মুন্না (১২) ও মেয়ে মুন্নি (৭) মারা যায়। বুধবার মৃত্যু হয় আরেক মেয়ে কথার (৪)। বর্তমানে কালামের কবরের পাশেই স্ত্রী ও তিন সন্তানের দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের প্রতিবেশী স্থানীয় বাসিন্দা বশির বলেন, আমাদের এলাকায় একইসঙ্গে চারটি কবর খোড়ার দৃশ্য এর আগে কখনো দেখি নাই। খুবই কষ্ট হচ্ছে দেখে। আল্লাহ যেন এমন মৃত্যু কাউকে না দেয়।

আরেক প্রতিবেশী লিটন বলেন, `পরিবারের জীবিকার তাগিদে কালাম পরিবার নিয়ে ঢাকায় গেছিল। ঈদেও এসে বেড়াইয়া গ্যাছে, কত আনন্দে ছিল ওরা। কালামের আশা ছিল, টাকা-পয়সা কামাই করে গ্রামে আইসা ঘর উঠাইবে, কিন্তু তা আর হইলো না। ওর পরিবারে প্রদীপ জ্বালানোর মতোও আর কেউ রইলো না!‘

পটুয়াখালী-(বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একই পরিবারের সব মানুষের এমন মৃত্যু আমাদের জন্য বেদনার। ঘটনাটি শোনার পর থেকেই আমি সবসময় খোঁজ নিয়েছি। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম তাদের প্রত্যেকের শরীরের ৩৫-৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সাধারণত এমন রোগী বাঁচানোটা একটু কষ্টকর হয়ে পড়ে। গতকাল তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসতেও আমি সব ব্যবস্থা করেছি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

পাশাপাশি কবরে সমাহিত একই পরিবারের ৫ সদস্য

আপডেট সময় ০১:১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে পাড়ি জমান পটুয়াখালীর মীর কালাম। ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করে স্বপ্ন বুনেছিলেন পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার। কিন্তু কে জানত এক নির্মম মৃত্যু একইসঙ্গে ঝড়াবে পরিবারের সবার প্রাণ!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পটুয়াখালীর বাউফলের মীর কালামের পরিবারের পাঁচ সদস্য। নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর নেমে আসে শোকের ছায়া।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কনকদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে, স্থানীয় উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

জানা যায়, গত রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী কালাম সবজির আড়তে যাওয়ার পূর্বে খাবারের তরকারি গরম করতে যান স্ত্রী সালমা বেগম। হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাদের একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সবাই।

শেষ পর্যায়ে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গৃহবধূ সালমা (৩২)। এর আগে মঙ্গলবার পরিবারের প্রধান মীর কালাম (৩৫) মারা গেলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়। বৃহস্পতিবার তার ছেলে মুন্না (১২) ও মেয়ে মুন্নি (৭) মারা যায়। বুধবার মৃত্যু হয় আরেক মেয়ে কথার (৪)। বর্তমানে কালামের কবরের পাশেই স্ত্রী ও তিন সন্তানের দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের প্রতিবেশী স্থানীয় বাসিন্দা বশির বলেন, আমাদের এলাকায় একইসঙ্গে চারটি কবর খোড়ার দৃশ্য এর আগে কখনো দেখি নাই। খুবই কষ্ট হচ্ছে দেখে। আল্লাহ যেন এমন মৃত্যু কাউকে না দেয়।

আরেক প্রতিবেশী লিটন বলেন, `পরিবারের জীবিকার তাগিদে কালাম পরিবার নিয়ে ঢাকায় গেছিল। ঈদেও এসে বেড়াইয়া গ্যাছে, কত আনন্দে ছিল ওরা। কালামের আশা ছিল, টাকা-পয়সা কামাই করে গ্রামে আইসা ঘর উঠাইবে, কিন্তু তা আর হইলো না। ওর পরিবারে প্রদীপ জ্বালানোর মতোও আর কেউ রইলো না!‘

পটুয়াখালী-(বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একই পরিবারের সব মানুষের এমন মৃত্যু আমাদের জন্য বেদনার। ঘটনাটি শোনার পর থেকেই আমি সবসময় খোঁজ নিয়েছি। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম তাদের প্রত্যেকের শরীরের ৩৫-৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সাধারণত এমন রোগী বাঁচানোটা একটু কষ্টকর হয়ে পড়ে। গতকাল তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসতেও আমি সব ব্যবস্থা করেছি।