ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

নীলফামারীর সদরে স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছেন স্বামী। এতে আগুনে পুড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত বিথী আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে ও এক সন্তানের জননী।

নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সাজু মিয়ার সাথে বিথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে সাজু স্ত্রীসহ সদরের গাছবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিথী আক্তারের সঙ্গে সাজু মিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল।

গত ৯ মে শনিবার বিকেলের দিকে সাজু মিয়ার বিথী আক্তারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় সাজু মিয়া বিথী আক্তারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে রুমের মধ্যে বিথী আক্তারকে রেখে রুমের দরজা আটকিয়ে তালা লাগিয়ে সাজু মিয়া সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ সময়ে বিথী আক্তার চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা মাসুদা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে জামাই আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো। আমরা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সহায়তা যতটুকু পারি করেছিলাম। অবশেষে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মেয়েটাকে মেরে ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নীলফামারীর সদরে স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছেন স্বামী। এতে আগুনে পুড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত বিথী আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে ও এক সন্তানের জননী।

নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সাজু মিয়ার সাথে বিথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে সাজু স্ত্রীসহ সদরের গাছবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিথী আক্তারের সঙ্গে সাজু মিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল।

গত ৯ মে শনিবার বিকেলের দিকে সাজু মিয়ার বিথী আক্তারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় সাজু মিয়া বিথী আক্তারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে রুমের মধ্যে বিথী আক্তারকে রেখে রুমের দরজা আটকিয়ে তালা লাগিয়ে সাজু মিয়া সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ সময়ে বিথী আক্তার চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা মাসুদা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে জামাই আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো। আমরা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সহায়তা যতটুকু পারি করেছিলাম। অবশেষে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মেয়েটাকে মেরে ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।