সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সাবেক উপপরিচালক মাহবুবুর রশিদ, পরিচালক হাবিবউল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ফাইল আটকে ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ঢাকা গণপূর্ত সার্কেলে বদরুলের আধিপত্য, কমিশন বাণিজ্য ও ক্ষমতার দাপটে বিপর্যস্ত সাধারণ প্রকৌশলীরা পরিচালক হাবিবুল্লাহ, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ লীগপন্থী ঠিকাদারদের অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য থেকে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তা হোসাইন নিশাতের ‘শত কোটির দুর্নীতি সাম্রাজ্য’ চাঁদা না পেয়ে অ’ন্তঃসত্ত্বা নারীকে মা’রধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দোলনের বি’রুদ্ধে মা’মলা সরকারি জমিতে গড়ে উঠল বহুতল ভবন ‘সানভিউ বিধি ভেঙে আরএমও পদায়ন, ‘এম উদ্দিন’ ছদ্মনামে টেস্ট সিন্ডিকেটের অভিযোগ

রাতের আঁধারে তিস্তার বুক ক্ষতবিক্ষত; গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এক সময় এই স্লোগান দিয়ে যারা তিস্তা নদী রক্ষার ডাক দিয়েছিল, আজ স্বার্থের নেশায় তারাই তিস্তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে নদী তীরের শত শত বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
‎​
‎​সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোয় শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু খেকো চক্রটি। শক্তিশালী ড্রেজার ও ভ্যাকু মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় যারা নদী রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাদের ছত্রছায়াতেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
‎​গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রভাব
‎​বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এর মর্নেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশাল বিশাল ট্রাক্টর (ট্রলি) দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন।
‎​
‎​নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগাম ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে এবং তাদের অবশিষ্ট আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
‎​
‎​স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করলে তিস্তা নদীকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
‎​
‎তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার আধার। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নদীর অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে তিস্তাকে তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে দিতে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

রাতের আঁধারে তিস্তার বুক ক্ষতবিক্ষত; গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৭:০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এক সময় এই স্লোগান দিয়ে যারা তিস্তা নদী রক্ষার ডাক দিয়েছিল, আজ স্বার্থের নেশায় তারাই তিস্তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে নদী তীরের শত শত বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
‎​
‎​সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোয় শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু খেকো চক্রটি। শক্তিশালী ড্রেজার ও ভ্যাকু মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় যারা নদী রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাদের ছত্রছায়াতেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
‎​গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রভাব
‎​বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এর মর্নেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশাল বিশাল ট্রাক্টর (ট্রলি) দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন।
‎​
‎​নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগাম ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে এবং তাদের অবশিষ্ট আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
‎​
‎​স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করলে তিস্তা নদীকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
‎​
‎তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার আধার। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নদীর অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে তিস্তাকে তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে দিতে।