রংপুর-গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের চব্বিশ হাজারী এলাকা দিয়ে চলাচল করলেই বোঝা যায় মানুষের ভোগান্তি কতটা তীব্র। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পুরো এলাকা কুয়াশায় ঢাকা। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, সেটি কুয়াশা নয়—সড়কজুড়ে উড়তে থাকা ধুলার ঘন স্তর।
প্রায় এক বছর ধরে সড়ক সংস্কারের কাজ চললেও কাজের গতি খুব ধীর। চব্বিশ হাজারী থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে রেখে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, পুরনো রাস্তা কেটে ইটের খোয়া ও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজ এগোয় না। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। অনেক সময় সামনে থাকা গাড়িও স্পষ্ট দেখা যায় না। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে।
অটোরিকশাচালক মোবারক হোসেন বলেন,
“ধুলার কারণে গাড়ি চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে। সামনে কিছু দেখা যায় না। হঠাৎ মানুষ বা গাড়ি সামনে চলে আসে।”
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গঙ্গাচড়া, চব্বিশ হাজারী, বুড়িরহাটসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ রংপুর শহরে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
কলেজ শিক্ষার্থী মোহসিন বলেন,
“প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাই। ধুলার কারণে চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতেও সমস্যা হয়।”
চাকরিজীবী আইয়ুব আলী বলেন,
“সকালে পরিষ্কার কাপড় পরে বের হই, অফিসে পৌঁছানোর আগেই সব ধুলায় নষ্ট হয়ে যায়।”
ধুলাবালির কারণে শুধু চলাচলই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও নিউমোনিয়ার সমস্যা বাড়ছে। বাড়িঘর, দোকানপাট, এমনকি গাছপালাও ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় চিকিৎসক দীপা রানী বলেন,
“দীর্ঘদিন ধুলাবালির মধ্যে থাকলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পানি ছিটানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। নিয়মিত পানি ছিটানো হলে ধুলার ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কদমতলী বাজার থেকে বুড়িরহাট চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক শক্তিশালীকরণে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মুহাম্মদ আমিনুল হক (প্রাঃ) লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন,
“কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজের গতি ধীর হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ শিরোনাম ::
খোঁড়াখুঁড়িতে বছরজুড়ে ধুলার যন্ত্রণা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
-
মোছাদ্দেক সৈকত, স্টাফ রিপোর্টার-রংপুর - আপডেট সময় ০৬:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- ৬০৪ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ


























