ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

রংপুরে বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট ৪০ একর বোরো ধান, দুর্ভোগে দুই শতাধিক কৃষক

রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাঠ ইউনিয়নে অবস্থিত ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত বর্জ্যে পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খামারটি কোনো কার্যকর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হওয়ায় দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে খামারের জমে থাকা বিষাক্ত বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শত শত কৃষকের বোরো ধান ও দেশীয় মাছ। চলতি বোরো মৌসুমেও একই ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ৪০ একর জমির ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের ২০ শতাংশও সময়মতো ঘরে তুলতে পারেননি তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানের শীষ পচে যাওয়া, গাছ কালচে হয়ে শুকিয়ে পড়া এবং জমিতে দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকার কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি এলাকার পুকুর ও জলাশয়ের দেশীয় মাছও মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা:সেলিনা আফরোজ বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করেছি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন সমস্যার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বোরো মৌসুমে বিকল্প চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেলে তাদের জানানো হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক জনাব সালাম বলেন, ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি খামার নিয়ে এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় পরিদর্শন টিম তদন্ত করেছিল। খামার মালিক শাহাদাত হোসেনকে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল। তিনি বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে অধিদপ্তর আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে পরিবেশ দূষণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

রংপুরে বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট ৪০ একর বোরো ধান, দুর্ভোগে দুই শতাধিক কৃষক

আপডেট সময় ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাঠ ইউনিয়নে অবস্থিত ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত বর্জ্যে পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খামারটি কোনো কার্যকর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হওয়ায় দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে খামারের জমে থাকা বিষাক্ত বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শত শত কৃষকের বোরো ধান ও দেশীয় মাছ। চলতি বোরো মৌসুমেও একই ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ৪০ একর জমির ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের ২০ শতাংশও সময়মতো ঘরে তুলতে পারেননি তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানের শীষ পচে যাওয়া, গাছ কালচে হয়ে শুকিয়ে পড়া এবং জমিতে দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকার কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি এলাকার পুকুর ও জলাশয়ের দেশীয় মাছও মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা:সেলিনা আফরোজ বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করেছি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন সমস্যার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বোরো মৌসুমে বিকল্প চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেলে তাদের জানানো হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক জনাব সালাম বলেন, ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি খামার নিয়ে এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় পরিদর্শন টিম তদন্ত করেছিল। খামার মালিক শাহাদাত হোসেনকে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল। তিনি বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে অধিদপ্তর আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে পরিবেশ দূষণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।