ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

গোপালগঞ্জে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা

বিপ্লব ও তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক ভিটা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘সুকান্ত মেলা’। বুধবার মেলাটি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় শুরু হয়ে ১৫ মে শেষ হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্বোধন করবেন। সমাপনী দিন প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। মেলায় তিন দিনের আয়োজনে থাকবে বিভিন্ন কবির আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এছাড়াও দেশবরেণ্য বিভিন্ন শিল্পীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে মেলা প্রাঙ্গণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কবির বাড়ির পাশের বিশাল মাঠে বসছে গ্রামীণ মেলা। যেখানে মাটির তৈরি খেলনা, কুটিরশিল্প এবং লোকজ খাদ্যের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। ধারাবাশাল আদর্শ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় বলেন, প্রতি বছর সুকান্ত মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশবরেণ্য কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের আড্ডা বসে। আশা করছি, এ বছর তার ব্যতিক্রম হবে না। এ মেলায় এসে কবি-সাহিত্যিকরা তাদের
প্রাণ খুলে কথা বলতে পারেন। তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ মেলা আয়োজন করেছে। ইতিমধ্যে আমরা মেলার সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। আমি চাইব, ভবিষ্যতেও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মৃতিকে ধরে রাখতে আরো বর্ণাঢ্যভাবে যেন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।’
তিন দিনের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে কবি সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কিংবা ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সেই দ্রোহ আর তারুণ্যের উদ্দীপনা আবারও নতুন করে জেগে উঠবে বলে মনে করছেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। মেলাটি ঘিরে শুধু কোটালীপাড়া নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি। উল্লেখ্য, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান। কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও কবি সুকান্তের পৈতৃক ভিটা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘অভিযান’ ও ‘হরতাল’। কবি সুকান্তের প্রতিটি কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শোষিতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ফুটে উঠেছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা

আপডেট সময় ০৫:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
বিপ্লব ও তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক ভিটা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘সুকান্ত মেলা’। বুধবার মেলাটি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় শুরু হয়ে ১৫ মে শেষ হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্বোধন করবেন। সমাপনী দিন প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। মেলায় তিন দিনের আয়োজনে থাকবে বিভিন্ন কবির আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এছাড়াও দেশবরেণ্য বিভিন্ন শিল্পীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে মেলা প্রাঙ্গণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কবির বাড়ির পাশের বিশাল মাঠে বসছে গ্রামীণ মেলা। যেখানে মাটির তৈরি খেলনা, কুটিরশিল্প এবং লোকজ খাদ্যের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। ধারাবাশাল আদর্শ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় বলেন, প্রতি বছর সুকান্ত মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশবরেণ্য কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের আড্ডা বসে। আশা করছি, এ বছর তার ব্যতিক্রম হবে না। এ মেলায় এসে কবি-সাহিত্যিকরা তাদের
প্রাণ খুলে কথা বলতে পারেন। তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ মেলা আয়োজন করেছে। ইতিমধ্যে আমরা মেলার সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। আমি চাইব, ভবিষ্যতেও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মৃতিকে ধরে রাখতে আরো বর্ণাঢ্যভাবে যেন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।’
তিন দিনের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে কবি সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কিংবা ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সেই দ্রোহ আর তারুণ্যের উদ্দীপনা আবারও নতুন করে জেগে উঠবে বলে মনে করছেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। মেলাটি ঘিরে শুধু কোটালীপাড়া নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি। উল্লেখ্য, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান। কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও কবি সুকান্তের পৈতৃক ভিটা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘অভিযান’ ও ‘হরতাল’। কবি সুকান্তের প্রতিটি কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শোষিতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ফুটে উঠেছে।