সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

মাস্টার্স সনদ ইস্যুর ৭ মাস আগে প্রভাষক মাসুম উল হক মিন্টুর নিয়োগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেরাইল জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এস.এ.এম মাসুম উল হকের নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনডেক্স নম্বর ৩০০৬৩৬৩-ধারী এই শিক্ষক ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর ওই কলেজে যোগদান করেন।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত তার ‘মাস্টার্স ডিগ্রির সাময়িক সনদপত্র’ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সনদপত্রের ক্রমিক নম্বর ০০০১৩৯ এবং আইডি নম্বর ২০০১১০৯১২। সনদটিতে রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ তারিখে স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ, সনদ ইস্যু হওয়ার প্রায় ৭ মাস আগেই তিনি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেছেন।
এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর ২৬ আগস্ট ২০১১ তারিখে তৎকালীন অধ্যক্ষ (প্রয়াত) গোলাম মোস্তফা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মেহেরপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুরশীদ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২২ জুলাই মাউশি মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন পেশ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক এস.এ.এম মাসুম উল হক (মিন্টু) কলেজে যোগদান করেছেন ১০ অক্টোবর ২০০২ তারিখে; অথচ তার মাস্টার্সের ফলাফল প্রকাশ ও সাময়িক সনদ ইস্যু হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ তারিখে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের আগেই নিয়োগ পাওয়ায় তার এই নিয়োগ বিধি মোতাবেক হয়নি বলে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রভাষক *এস.এ.এম মাসুম উল হক মিন্টুর* সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সার্কুলার দিয়েছিলেন এবং আমি আবেদন করেছিলাম। নিয়োগ কমিটি আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। কমিটির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমি মাস্টার্স পাসের সার্টিফিকেট দাখিল করেছি। সেই মোতাবেক ২০০২ সালে নিয়োগ হলেও ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হই। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিটি সুযোগ দিয়েছিল বলেই আমি শিক্ষকতা করছি। আমার নিয়োগ নিয়মবহির্ভূত কি না, তার ব্যাখ্যা তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারাই দিতে পারবেন।”
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি *জুলফিকার আলী ভুট্টো* বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে আমার কোনো ধারণা ছিল না। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সনদের কপি, তদন্ত প্রতিবেদন ও নিয়োগের তারিখ পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে নিয়োগটি বিধিসম্মত হয়নি।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ *জিদারুল ইসলাম* জানান, “এ বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। তবে বিধি মোতাবেক যোগ্যতা অর্জনের আগেই বোর্ড কীভাবে তাকে নিয়োগ দিল, বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।”
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত) *মনিরুল ইসলাম* বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অর্জনের পরই নিয়োগ হওয়ার কথা।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) *আনোয়ার হোসেন* এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার ৭ মাস আগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদন মাউশি মহাপরিচালক বরাবর ১৩ বছর আগে পাঠানো হয়েছে, তারপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টা খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

মাস্টার্স সনদ ইস্যুর ৭ মাস আগে প্রভাষক মাসুম উল হক মিন্টুর নিয়োগ

আপডেট সময় ০২:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেরাইল জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এস.এ.এম মাসুম উল হকের নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনডেক্স নম্বর ৩০০৬৩৬৩-ধারী এই শিক্ষক ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর ওই কলেজে যোগদান করেন।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত তার ‘মাস্টার্স ডিগ্রির সাময়িক সনদপত্র’ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সনদপত্রের ক্রমিক নম্বর ০০০১৩৯ এবং আইডি নম্বর ২০০১১০৯১২। সনদটিতে রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ তারিখে স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ, সনদ ইস্যু হওয়ার প্রায় ৭ মাস আগেই তিনি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেছেন।
এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর ২৬ আগস্ট ২০১১ তারিখে তৎকালীন অধ্যক্ষ (প্রয়াত) গোলাম মোস্তফা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মেহেরপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুরশীদ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২২ জুলাই মাউশি মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন পেশ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক এস.এ.এম মাসুম উল হক (মিন্টু) কলেজে যোগদান করেছেন ১০ অক্টোবর ২০০২ তারিখে; অথচ তার মাস্টার্সের ফলাফল প্রকাশ ও সাময়িক সনদ ইস্যু হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ তারিখে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের আগেই নিয়োগ পাওয়ায় তার এই নিয়োগ বিধি মোতাবেক হয়নি বলে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রভাষক *এস.এ.এম মাসুম উল হক মিন্টুর* সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সার্কুলার দিয়েছিলেন এবং আমি আবেদন করেছিলাম। নিয়োগ কমিটি আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। কমিটির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমি মাস্টার্স পাসের সার্টিফিকেট দাখিল করেছি। সেই মোতাবেক ২০০২ সালে নিয়োগ হলেও ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হই। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিটি সুযোগ দিয়েছিল বলেই আমি শিক্ষকতা করছি। আমার নিয়োগ নিয়মবহির্ভূত কি না, তার ব্যাখ্যা তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারাই দিতে পারবেন।”
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি *জুলফিকার আলী ভুট্টো* বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে আমার কোনো ধারণা ছিল না। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সনদের কপি, তদন্ত প্রতিবেদন ও নিয়োগের তারিখ পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে নিয়োগটি বিধিসম্মত হয়নি।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ *জিদারুল ইসলাম* জানান, “এ বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। তবে বিধি মোতাবেক যোগ্যতা অর্জনের আগেই বোর্ড কীভাবে তাকে নিয়োগ দিল, বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।”
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত) *মনিরুল ইসলাম* বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অর্জনের পরই নিয়োগ হওয়ার কথা।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) *আনোয়ার হোসেন* এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার ৭ মাস আগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদন মাউশি মহাপরিচালক বরাবর ১৩ বছর আগে পাঠানো হয়েছে, তারপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টা খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে