সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ ভোলাহাটে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ২০২৬ শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত!  নবাগত শিশুকে স্বাগত জানিয়ে গাছ লাগাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবন থেকে ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ভোলাহাটে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে “সখিনা-কলিম” মেধা প্রণোদনা বৃত্তি প্রকল্প বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত ভোলাহাটে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ উদ্বোধন! পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন হং নাশকতার মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে বিরোধী দলের আসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থে‌কে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ

চট্টগ্রামে ৪১ ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন চুক্তি

চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। নতুন এ চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আজ (সোমবার) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (এস), বিএনএ ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।

২০২২ সালে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চার বছরের কম সময়ে ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক— যা সাধারণত পুনর্ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু বর্জ্য সংগ্রহ নয়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভাঙারিওয়ালা ও রিসাইক্লারদের একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেয়েছেন নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ২০২৫ সালে চালু করা হয়েছে গ্রুপ লাইফ ইনস্যুরেন্স সুবিধা, যার আওতায় ১ হাজার ৮২৭ জন কর্মী দুর্ঘটনা বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাচ্ছেন। কমিউনিটি পর্যায়েও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে এ কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারী ভাঙারিওয়ালাদের অর্ধেকের বেশি এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সবারই রয়েছে সক্রিয় ব্যাংক হিসাব।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। যৌথভাবে কাজ করলে সেবার মান যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও সহজ হয়। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই।”

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিকল্প নেই। চট্টগ্রামে আমাদের এ অংশীদারিত্ব বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বর্জ্যকর্মীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইপসার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনায় তাদের আয়, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি বেড়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব সহায়তা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে উদ্যোগটি কার্যকর ও টেকসই হয়েছে।”

চট্টগ্রামে ফের সীমানা নিয়ে কেইপিজেড ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা
রাজমিস্ত্রি থেকে চবিয়ান : রিয়াদের অদম্য সংগ্রামের গল্প
প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন মাসুম
অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক ও দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। নবায়ন হওয়া এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ

চট্টগ্রামে ৪১ ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন চুক্তি

আপডেট সময় ০৯:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। নতুন এ চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আজ (সোমবার) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (এস), বিএনএ ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।

২০২২ সালে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চার বছরের কম সময়ে ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক— যা সাধারণত পুনর্ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু বর্জ্য সংগ্রহ নয়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভাঙারিওয়ালা ও রিসাইক্লারদের একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেয়েছেন নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ২০২৫ সালে চালু করা হয়েছে গ্রুপ লাইফ ইনস্যুরেন্স সুবিধা, যার আওতায় ১ হাজার ৮২৭ জন কর্মী দুর্ঘটনা বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাচ্ছেন। কমিউনিটি পর্যায়েও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে এ কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারী ভাঙারিওয়ালাদের অর্ধেকের বেশি এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সবারই রয়েছে সক্রিয় ব্যাংক হিসাব।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। যৌথভাবে কাজ করলে সেবার মান যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও সহজ হয়। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই।”

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিকল্প নেই। চট্টগ্রামে আমাদের এ অংশীদারিত্ব বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বর্জ্যকর্মীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইপসার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনায় তাদের আয়, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি বেড়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব সহায়তা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে উদ্যোগটি কার্যকর ও টেকসই হয়েছে।”

চট্টগ্রামে ফের সীমানা নিয়ে কেইপিজেড ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা
রাজমিস্ত্রি থেকে চবিয়ান : রিয়াদের অদম্য সংগ্রামের গল্প
প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন মাসুম
অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক ও দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। নবায়ন হওয়া এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।