মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের সোনাদিয়া এলাকায় সরকারি খাস জমি ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কটেজ ও রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথম ধাপে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার। এ সময় আনুমানিক ২০ থেকে ২৫টি বড়, ছোট ও মাঝারি আকারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পুনরায় সরকারি খাসজমি দখলমুক্ত করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে বিভিন্ন বাহিনী অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, মহেশখালী থানা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের প্রতিনিধিরা। তারা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, সরকারি খাসজমি রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি সোনাদিয়ার সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সোনাদিয়া এলাকায় পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার কারণে উপকূলীয় বন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপের অভিযানে আরও বেশি সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া অন্যান্য সরকারি জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, এই দ্বীপের ইতিহাসে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ইস্যূ নিয়ে উত্তপ্ত এই দ্বীপে এমন অভিযান বেশ প্রশংসনীয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকুক,সোনাদিয়া রাঘববোয়ালদের হাত থেকে রক্ষা পাক।
দিনমজুর থেকে পরিবেশ কর্মী, চাকুরীজীবি থেকে সচেতন মহল সকলের চোখ এখন সোনাদিয়ায়,তারা প্রত্যাশা সোনাদিয়া তার পুরানো জৌলুশ ফিরে পাক।সমুদ্রের বালিয়াড়ি জুড়ে থাকুক লাল কাঁকড়া ও কাছিমের আনাগোনা।
আবু হেনা আসিফ 



















