ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে মিলল যুবক মরদেহ, নেপথ্যে পরকীয়া

ইনসেটে নিহত ইকরামুল কবির
যশোরের শার্শায় নিখোঁজের এক মাস পাঁচ দিন পর গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক, দাম্পত্য কলহ ও টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশের অভিযানে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইকরামুল কবির শার্শার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর গ্রামের আল-ফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা চলছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকতো। এরই মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। প্রায় এক মাস আগে ইকরামুল তার পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুন্নীর স্বামী আল-ফুরাদকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে বসতপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর মরদেহ গোপন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে মিলল যুবক মরদেহ, নেপথ্যে পরকীয়া

আপডেট সময় ১০:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ইনসেটে নিহত ইকরামুল কবির
যশোরের শার্শায় নিখোঁজের এক মাস পাঁচ দিন পর গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক, দাম্পত্য কলহ ও টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশের অভিযানে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইকরামুল কবির শার্শার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর গ্রামের আল-ফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা চলছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকতো। এরই মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। প্রায় এক মাস আগে ইকরামুল তার পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুন্নীর স্বামী আল-ফুরাদকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে বসতপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর মরদেহ গোপন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।