ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে আমের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুব ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।
তিনি আরও বলেন, আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক- সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। সরকার বাজার মনিটরিং করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
আরেক চাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হলে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যে আম না কিনলে কৃষক টিকতে পারবে না। বিশেষ করে হিমসাগরের দাম দুই হাজার টাকার নিচে নেমে গেলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তালা উপজেলার চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশে সবার আগে বাজারে আসে- এটাই আমাদের বড় সুবিধা। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

আপডেট সময় ০৯:১৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে আমের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুব ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।
তিনি আরও বলেন, আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক- সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। সরকার বাজার মনিটরিং করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
আরেক চাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হলে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যে আম না কিনলে কৃষক টিকতে পারবে না। বিশেষ করে হিমসাগরের দাম দুই হাজার টাকার নিচে নেমে গেলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তালা উপজেলার চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশে সবার আগে বাজারে আসে- এটাই আমাদের বড় সুবিধা। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে